বাংলাদেশের মাটিতেই উন্মোচন হলো মহিষের পূর্ণ জীবনরহস্য। যৌথভাবে এই উদ্ভাবনের কাজটি করেছেন বাংলাদেশের লাল তীর লাইভস্টক ও গণচীনের বেইজিং জিনোম ইনস্টিটিউটের (বিজিআই) একদল বিজ্ঞানী। উদ্ভাবিত জীবনরহস্য থেকে পাওয়া উপাত্তগুলো মহিষের উন্নত ও অধিক উৎপাদনশীল জাত উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে জীববিজ্ঞানী, বায়ো-ইনফরমেটিশিয়ান ও তথ্যপ্রযুক্তিবিদদের সমন্বয়ে গঠিত গবেষক দলটি।
গবেষকদের মতে, জীবনরহস্য থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত কাজে লাগানো হলে আগামী দিনে মহিষের আকার ও ওজন বাড়বে। একই সঙ্গে মহিষের রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। মলিকিউলার ব্রিডিংয়ের মাধ্যমে দ্রুত প্রজনন হবে। বাড়বে দুধ ও মাংসের পরিমাণ।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর র্যােডিসন হোটেলের বলরুমে আয়োজিত ‘মহিষের (Bubalus bubalis) পূর্ণ জীবনরহস্য উন্মোচন’ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ‘de novo sequencing-এর সর্বাধুনিক ‘Illumina’s HiSeq’ পদ্ধতিতে মহিষের এই জীবনরহস্য উন্মোচন করা হয়। গবেষণায় পাওয়া জিনের আকার ২ দশমিক ৯৪৬ এন। ‘SOAP denovoc’ পদ্ধতিতে জিনোমগুলো একত্র করা হয়। এ গবেষণায় মোট ২১ হাজার ৫৫০টি জিন শনাক্ত করা হয়েছে।
গবেষণাকাজে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ দলের প্রধান পশুসম্পদ গবেষক মনিরুজ্জামান বলেন, দেশে মহিষের খামার গরুর খামারের চেয়ে বেশি লাভজনক। কেননা, গরুর চেয়ে মহিষের রোগপ্রতিরোধের ক্ষমতা অনেক বেশি। গরুর চেয়ে মহিষের মাংস-দুধও বেশি পুষ্টিকর।
মনিরুজ্জামান জানান, মহিষের দুধে স্নেহজাতীয় পদার্থের পরিমাণ প্রায় ৮ শতাংশ, যেখানে গরুর দুধে এর পরিমাণ ১ থেকে ৩ শতাংশ। মহিষের মাংসে তুলনামূলক চর্বিও অনেক কম।
মনিরুজ্জামান বলেন, “এখনো আমাদের দেশে মহিষ পালন নিয়ে আগ্রহ কম। আবার যাওবা পালন করা হয়, তা হয় সনাতন পদ্ধতিতে।” বৈজ্ঞানিকভাবে পালন করা হলে মহিষ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখতে সক্ষম হবে বলে জানান তিনি।
মনিরুজ্জামান জানান, বাংলাদেশের ভোলার সুবর্ণচর এবং ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর থেকে গবেষণা উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়। মূলত ২০১১ সালের মার্চ মাস থেকে বিজিআইয়ের সহযোগিতায় এ গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
গবেষণা দলের অন্যতম সদস্য কাজী এমদাদুল হক জানান, গরুর তুলনায় মহিষে চর্বি থাকে কম। তবে মহিষের দুধে চর্বি থাকে বেশি। গরুর তিন লিটার দুধে যে পরিমাণ ছানা হয়, মহিষের এক লিটার দুধেই তা হয়।
অনুষ্ঠানে লাল তীরের পরিচালক তাবিথ আউয়াল জানান, পশুসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের অনুমতি নিয়ে দেড় বছর আগে এ গবেষণাকাজ শুরু হয়েছিল। আর প্রাণিজগতের এটিই প্রথম কোনো প্রাণী, যার জীবনরহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হলেন আমাদের বিজ্ঞানীরা।”
প্রসঙ্গত, এর আগে বাংলাদেশের একদল বিজ্ঞানী দেশী ও তোষা পাটের জীবননকশা উম্মোচন করেন।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, বাংলাদেশে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জন এফ ড্যানিলজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োক্যামেস্ট্রি অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজি বিভাগের প্রধান হাসিনা খান, বাংলাদেশ জুট জিনোম ন্যাশনাল প্রোগ্রামের প্রধান গবেষক মাকসুদুল আলম, চ্যানেল আইয়ের বার্তা বিভাগের প্রধান শাইখ সিরাজ, বিজিআইয়ের চেয়ারম্যান জিয়ান ওয়াং, ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. গেনজিয়ান ঝান এবং লাল তীর লাইভস্টক লিমিটেডের চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টুয।
বক্তারা লাল তীর ও বিজিআইয়ের যৌথ আবিষ্কার মহিষের জিন নকশা উন্মোচন গবেষণা ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্যের একটি মাইলফলক বলে উল্লেখ করেন।
সূত্র - natunbarta.com

