‘মানুষের চোখ হলো তাঁর আত্মার জানালা’। শেক্সপিয়ারের এমন চিন্তার সঙ্গে এবার সুর মেলালেন বিজ্ঞানীরা। তাঁরা বলছেন, মস্তিষ্কের মধ্যে চলতে থাকা ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তির ব্যবহারের প্রকাশ ঘটে মানুষের চোখে। কারও চোখের মণি নড়াচড়া থেকে বোঝা যায় তাঁর ধৈর্যক্ষমতা কেমন। যেমন, অতি দ্রুত চোখের নড়াচড়ার মধ্যে কোনো ব্যক্তির অস্থিরতার প্রকাশ থাকে।
গবেষণায় পাওয়া নতুন তথ্যপ্রমাণাদির ভিত্তিতে এ দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক। তাঁদের গবেষণা নিবন্ধটি প্রকাশ করেছে বিজ্ঞান সাময়িকী দ্য জার্নাল অব নিউরোসায়েন্স।
জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রেজা শাদমেহরের নেতৃত্বে একদল গবেষক মানুষের চোখে নড়াচড়ার মাধ্যমে ব্যবহার ও মনের ভাব প্রকাশ নিয়ে গবেষণা করেন। গবেষকেরা একদল অংশগ্রহণকারীর ওপর দুই ধাপে গবেষণাটি করেন। প্রথম ধাপে, অংশগ্রহণকারীদের একটি পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকতে বলা হয়, যেখানে কতগুলো ফুটা দেখা যায়। এগুলো প্রথমে পর্দার এক পাশে দেখা যায় এবং পরে অন্য পাশে। এভাবে ফুটার দিক পরিবর্তন চলতে থাকে প্রতি সেকেন্ড ব্যবধানে। অংশগ্রহণকারী পর্দায় প্রদর্শিত ওই ফুটার দিকে তাকিয়ে থাকেন। ফুটার পাশ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের দৃষ্টিরও পরিবর্তন হয়। ওই সময় একটি ক্যামেরায় চোখের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে, ফুটার পাশ পরিবর্তনের সময় ব্যবধান ও দিক অনিয়মিত করে দেওয়া হয়। এসব পরীক্ষার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও ধৈর্যের পরীক্ষা করা হয়। মেডিকেল ডেইলি।
সূত্র - প্রথম আলো

