সকালে এক কাপ কফি পানকে অনেকেই সারা দিনের জন্য উদ্যম তৈরির সোপান বলে মনে করলেও বাস্তবে তা বিপরীত কাজ করে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী জাপানি কফিপ্রেমী রিয়োকো আইওয়াটা সম্প্রতি তাঁর ব্লগে ইউনিফর্মড সার্ভিসেস ইউনিভার্সিটি অব দ্য হেল্থ সায়েন্সেসের এক পিএইচডি গবেষকের উদ্ধৃতি দিয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করেছে ফোর্বস।
কফির উপাদান ক্যাফেইন দেহ উদ্দীপ্ত করলেও দেহেও থাকে প্রাকৃতিক ক্যাফেইন। গবেষকরা জানিয়েছেন, প্রত্যেক মানুষের দৈনন্দিন কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রিত হয় বডি ক্লকের মাধ্যমে, যার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হচ্ছে সূর্যের আলো। আর এ বডি ক্লক কর্টিসল নামে একটি হরমোন নিঃসরণ করে আমাদের সতর্ক ও জাগ্রত করে।
সাধারণ অবস্থায় সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে কর্টিসল হরমোন সবচেয়ে বেশি নিঃসরণ করে। ফলে এ সময়ে স্বাভাবিকভাবেই দেহে যথেষ্ট উন্নতমানের ‘প্রাকৃতিক ক্যাফেইন’ থাকে। ফলে এ সময় অতিরিক্ত ক্যাফেইনের দরকার হয় না। উপরন্তু যখন শরীরে যথেষ্ট ‘ক্যাফেইন’ থাকে তখন আরো ক্যাফেইন গ্রহণ এর কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়।
আইওয়াটার মতে, ‘যখন ক্যাফেইনের দরকার নেই, তখন ক্যাফেইন গ্রহণে আপনার দেহ দ্রুত তা সহ্য করে নেয়। ফলে আপনার দেহের উদ্দীপনা দ্রুত ধ্বংস হয়ে যায়।’
শরীর চাঙ্গা করতে ও ক্ষতিকর প্রভাবমুক্ত রাখতে কফি পানের জন্য কিছুটা ভিন্ন সময়সূচির কথা জানিয়েছেন আইওয়াটা। সাধারণ মানুষের কর্টিসল মাত্রা সর্বোচ্চ পরিমাণে থাকে সকাল ৮টা থেকে ৯টা, দুপুর ১২টা থেকে ১টা ও বিকাল ৫:৩০ থেকে ৬:৩০-এর মধ্যে।
এ কারণে কফি বিরতি হওয়া উচিত সকাল ৯:৩০ থেকে ১১:৩০ ও ১:৩০ থেকে ৫:০০টার মধ্যে, জানিয়েছেন আইওয়াটা।
সূত্র - দৈনিক কালের কণ্ঠ

