
মস্তিষ্কের অপ্রতিরোধ্য রোগ অ্যালঝেইমার্স মূলত মানুষের স্মৃতিতে থাবা বসায়। সম্প্রতি এর আদি উৎসস্থলটি চিহ্নিত করতে পেরেছেন বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি মেডিক্যাল সেন্টারের (সিইউএমসি) একদল বিজ্ঞানী। এ আবিষ্কারের ফলে রোগের প্রকোপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে বলেও আশা করছেন তারা।
বিশেষজ্ঞরা অবশ্য জানাচ্ছেন, অ্যালঝেইমার্সের উৎসস্থল হিসেবে মস্তিষ্কের দু’টি এলাকা ইতিমধ্যেই চিহ্নিত হয়েছে। আর তা হল ‘হিপোক্যাম্পাস’ এবং সংলগ্ন ‘এন্টোরাইনাল কর্টেক্স’। এগুলো ঠিক কোথায়? আসলে, মানবমস্তিষ্ককে বেশ কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করেন বিজ্ঞানীরা। এর মধ্যে সামনের ভাগটির মূল অংশ যা কি না সেরিব্রাল কর্টেক্স হিসেবে পরিচিত, সেটি দু’টি গোলার্ধ বা ‘হেমিস্ফিয়ারে’ বিভক্ত। এই দুই গোলার্ধের গভীরেই রয়েছে হিপোক্যাম্পাস এবং তার প্রতিবেশী এন্টোরাইনাল কর্টেক্স। যা কি না অ্যালঝেইমার্সের উৎসস্থল হিসেবে পরিচিত। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছে আনন্দবাজার।
নতুন আবিষ্কার বিষয়ে গবেষকদলের অন্যতম সদস্য স্কট এ স্মল বলেন, ‘আমাদের গবেষণায় নিখুঁত ভাবে ধরা পড়েছে, এন্টোরাইনাল কর্টেক্সের ঠিক কোন অংশে এই রোগের উৎপত্তি।’ এই অংশকে ল্যাটারাল এন্টোরাইনাল কর্টেক্স বা এলইসি নামে অভিহিত করছেন তাঁরা। শুধু তাই নয়, ‘নেচার নিউরোসায়েন্স’ জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণাপত্রে রোগের গতিপ্রকৃতিও ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
এ গবেষণার জন্য গত তিন বছর ধরে ৯৬ জন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে পর্যবেক্ষণের আওতায় রেখেছিলেন তাঁরা। ওই ৯৬ জনের মধ্যে পরবর্তী কালে ১২ জনের ‘মাইল্ড অ্যালঝেইমার্স’ ধরা পড়ে। এ দিকে এফএমআরআই-এও দু’দলের মস্তিষ্কের সক্রিয়তার ফারাক স্পষ্ট হয়ে যায়। দেখা যায়, অ্যালঝেইমার্সে আক্রান্ত ওই বারো জনের প্রত্যেকেরই এলইসি অঞ্চলে রক্তপ্রবাহ সুস্থদের তুলনায় কম। আর তাতেই সিইউএমসি-র বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন, এলইসি-ই অ্যালঝেইমার্সের আদি উৎসস্থল। এই রোগে এলইসি অঞ্চলের স্নায়ু ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। যা সংলগ্ন এলাকার স্নায়ুও ক্ষয় করে। সেই ক্ষয় আবার ছড়িয়ে যায় তার সংলগ্ন এলাকায়। গঠনগত দিক থেকে এলইসি-র প্রতিবেশী হিপোক্যাম্পাস ‘স্মৃতি সংরক্ষণের’ অন্যতম কেন্দ্র বলে ইতিমধ্যেই বিজ্ঞানীমহলে জনপ্রিয়। এ ক্ষেত্রে এলইসির স্নায়ুক্ষয়ের প্রভাব যদি হিপোক্যাম্পাসেও পড়ে, তা যে স্মৃতিভ্রংশ ঘটাবেই, তা প্রত্যাশিত। সিইউএমসি-র বিজ্ঞানীদের দাবি, এলইসি থেকে এ ভাবে ধীরে ধীরে গোটা মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়েএই রোগ।
স্নায়ুর এই ক্ষয়ের জন্য অন্যতম দু’টি খলনায়ককেও চিহ্নিত করা গিয়েছে বলে দাবি করেছেন সিইউএমসি-র বিজ্ঞানীদল। তাঁরা ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করে দেখেছেন, মস্তিষ্কে টাউ এবং এপিপি নামে দুই প্রোটিনের যৌথ আক্রমণই স্নায়ুর ক্ষয়ের মূল কারণ।
সূত্র - www.kalerkantho.com

