মহিলাদের জন্য
অতীতকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যান সামনে
মহিলাদের সবচেয়ে বড় শত্রু - ত্বকের ভাঁজ। ইস! ছোটবেলায় কি সুন্দর ছিলাম! কি কিউট লাগত! আহ! আবার যদি অমন হতে পারতাম! কে না চায় বলুন? যারা আক্ষেপ করেন তাদের জন্য সুখবর হলঃ গবেষনায় ত্বকের যত্নে আরো ভাল এবং কার্যকরী পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে। জাস্ট অতি সাধারন কিছু পদ্ধতি অনুসরন করুন। দেখবেন আপনার ত্বক হয়ে উঠবে আরো সুন্দর, কমনীয় আর মোহনীয়।
প্রতিদিন সানস্ক্রীন
সূর্যরশ্মি আপনার ত্বকের নাম্বার ওয়ান শত্রু যা কিনা ত্বকে ভাঁজের সৃষ্টি করে। এমনকি ক্যানসার পর্যন্ত হতে পারে। তাই যতটা সম্ভব সূর্যরশ্মি থেকে দূরে থাকুন। যদিও সেটা খুবই দূরহ কাজ। আর এজন্যই প্রতিদিন বাইরে বেরোনোর আগে সানস্ক্রীন মেখে বের হন। অভিজ্ঞরা বলেন যদি আপনি কোন কিছু মেখে বের হতে চান তা অবশ্যই সানস্ক্রীন। তারা পরামর্শ দেন প্রতিদিন Broad Spectrum SPF 30 জাতীয় সানস্ক্রীন।
ঘুম
যখন আপনার ঘুম কম হবে তখন আপনার দেহে অতিরিক্ত ‘কর্টিসোল’ (এক ধরনের হরমোন) তৈরী হবে যা আপনার ত্বকের কোষ-কলা ভেঙ্গে দিবে। আবার যখন আপনার গাঢ় ঘুম হবে তখন আপনার দেহে HGH (Human Growth Hormone) তৈরী হবে যা আপনার ত্বককে স্বাস্থ্যবান করে তুলবে। আর শুধু গাঢ় ঘুম হলেই হবে না আপনি কিভাবে ঘুমাচ্ছেন, সেটাও একটা ব্যাপার। আপনি যদি পাশ ফিরে শোন বা উপুড় হয়ে শোন, সেক্ষেত্রে আপনার ত্বকে স্পষ্ট ভাঁজ পড়তে পারে। যা আপনি জেগে ওঠার পরেও অনেকক্ষন থাকে। কাজেই একই দিকে বা একইভাবে প্রতিদিন না শুয়ে চেষ্টা করুন পার্শপরিবর্তন করে শুতে। সবচেয়ে ভাল উপায় হচ্ছে পিঠে ভর করে শোয়া।
খাবার নিয়ন্ত্রণ
ডার্মাটোলজিস্ট লেসলি বওম্যান এর মতে উত্তম পুস্টি হচ্ছে স্বাস্থবান ত্বকের মৌলিক ভিত্তি। প্রাকৃতিক উপাদান সম্মৃদ্ধ খাদ্য কোষের সুস্থতা আনে আর ‘কোলাজেন’কে বাড়িয়ে দেয়। অন্যদিকে অতিরিক্ত শর্করা (সুগার) সম্মৃদ্ধ খাবার ‘কোলাজেন’কে ভেঙ্গে দেয়। নীচে কিছু পুস্টিগুন সম্মৃদ্ধ খাবারের কথা বলা হল যা আপনার ত্বকের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয়।
মাছ – ফ্যাটি এসিড যুক্ত মাছ বিশেষ করে স্যলমন জাতীয় মাছ যেমন আপনার ত্বককে করে পরিপুস্ট তেমনি রাখে সুডৌল।
সয়াবীন – ইউরোপিয়ান জার্নাল অব নিউট্রিশনে প্রকাশিত নিবন্ধে জানা যায় গবেষনায় দেখা গেছে যে সয়াজাতীয় খাবার বা সয়াবীনের তৈরী খাবার খাওয়া শুরুর পর ছয় মাসের মধ্যে আপনার ত্বকের গঠন-গড়নের উন্নতি হয় এবং দৃঢ়তা বাড়ায়।
শাক-সবজী ও ফল - শাক-সবজী ও ফল এ থাকে এন্টি-অক্সিডেন্ট। যা আপনার ত্বকের ক্ষয় রোধ করে। প্রতিদিন ৫-৮ বার ফল এবং শাক-সবজী বা শাক-সবজী দিয়ে তৈরী খাবার খান।
এন্টি-অক্সিডেন্ট
এন্টি-অক্সিডেন্ট একধরনের যৌগ যাতে ভিটামিন এ, সি, ই, এবং অন্যান্য কালার বা বর্নবাহক যৌগ যেমন ক্যারোটিন থাকে। আর এগুলো একসঙ্গে আপনার ত্বকের সুরক্ষায় মহৌষধ হিসাবে কাজ করে। গ্রীন টি কিংবা ব্লাক টি দু’টোই এন্টি-অক্সিডেন্টপূর্ন এবং এতে সুরক্ষাকারী যৌগ যা ত্বকে অবস্থিত কোলাজেনের ভাঙ্গন রোধ করে। এক্ষেত্রে ডালিম আর আকাই বেরিও বেশ উপকারী। এগুলো খাওয়ার পাশাপাশি এন্টি-অক্সিডেন্ট সম্মৃদ্ধ ক্রীমও আপনার ত্বক ভাল রাখায় সহায়তা করে।
ব্যায়াম
সঠিক নিয়মাবলী মেনে ব্যায়াম করলে তা আপনার ত্বকের পেশিসমূহকে গাঢ় করে যা ত্বকের ঝুঁলে পড়া রোধ করে। যোগ ব্যায়াম চাপ কমায়, উজ্জ্বলতা বাড়ায় এবং আপনাকে করে তোলে তরতাজা তরুনীর মত সুন্দর।
পানি
এটা খুবই সাধারন বিষয়। পানি আপনার শরীরের ময়েশ্চার ধরে রাখে, ত্বককে রাখে নমনীয়। পানি অবশ্য দেহের ক্ষতিকর বিষাক্ত বর্জ্য অপসারনেও সরাসরি কাজ করে যা আপনার ত্বকের অনেক সমস্যা নিরসন করে। তাই প্রতিদিন ৬-৮ গ্লাস পানি করুন সাথে অন্যান্য তরল তো আছেই।
ময়েশ্চারাইজার
পেপটাইড হচ্ছে এমাইনো এসিডের চেইন যা ত্বককে আর্দ্রই রাখে না সাথে সাথে ত্বকের কোলাজেন উৎপাদনেও প্রভাব বিস্তার করে। কাজেই এমন ময়েশ্চারাইজার কিনুন যা পেপ্টাইড সম্মৃদ্ধ। এক্ষেত্রে নামি-দামী কোম্পানীর কোন ব্র্যান্ড কিনতে পারেন কারন তারা এ বিষয়ে প্রচুর গবেষনা করে এবং তাদের প্রোডাক্টের গুনাগুন বজায় রাখার চেষ্টা করে। মুখ ধোয়ার পর বা গোসল শেষে মোছার পর যখন আপনার ত্বক আর্দ্র থাকে তখন ময়েশ্চারাইজার মাখুন-এটা ময়েশ্চারকে ধরে রাখবে।
রেটিনলস
ভিটামিন এ থেকে আসে রেটিনল। এটি ত্বকের মৃত কোষ সরিয়ে নতুন কোষের উৎপাদনে প্রভাব ফেলে, ত্বকের পিগমেন্ট বা বর্ন গ্রন্থির উন্নতি সাধন করে আপনার ত্বককে টানটান করে, ত্বকের দাগ বা বলি রেখা দূর করে।
বদ অভ্যাস দূর করুন
বহু গবাষনায় এটা প্রমানিত যে ধুমপানে ত্বক বুড়িয়ে যায়, কেননা এতে এমন উপাদান থাকে যা আপনার ত্বকের কোলাজেনকে ভেঙ্গে দেয়। এলকোহলের ক্ষেত্রেও একই প্রমান পাওয়া যায়। এলকোহল পান বুড়িয়ে যাওয়াকে ত্বরান্বিত করে, ত্বকে ভাঁজ সৃষ্টি করে, কোলাজেন এর ক্ষতি করে, নমনীয়তা দূর করে, ত্বকে লালছোঁপ ফেলে, পানিশুন্যতা তৈরী করে, জোরে জোরে শ্বাস নেওয়া অর্থাৎ শ্বাসকষ্ট বাড়িয়ে দেয়।
হাসুন এবং সুখী হোন
বিবাহিত এবং ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়া দম্পতিদের মাঝে পরিচালিত এক গবেষনায় দেখা গেছে যারা তাদের সম্পর্ক নিয়ে সুখী এবং যারা জীবন নিয়ে আশাবাদী তাদের ত্বকে সহজে বলি রেখা বা ভাঁজ দেখা দেয় না অন্ততঃ তাদেরকে এই বিষয় নিয়ে চিন্তিত হতে হয় না। Psychology and Aging এর গবেষনায় দেখা যায় যে, যখন মানুষ তাদের সুখের দিনগুলি স্মরন করে হাসে, তরুন বয়সের সুখী ছবিগুলো দেখে, তারা তখন তাদের মনকে তরুন বয়সে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

