ভাইরাল হেপাটাইটাস : ভাইরাসের মাধ্যমে লিভারে যে প্রদাহ হয় তাকে ভাইরাল হেপাটাইটাস বলে। হেপাটাইটিস মূলত দুই ধরনের_একিউট ও ক্রনিক। এই ভাইরালহেপাটাইটাস পাঁচ রকমের হয়ে থাকে। এই হেপাটাইটাসগুলোর নাম হলো এ, বি, সি, ডিএবং ই । 'এ' এবং 'ই' সাধারণত পানিবাহিত ও খাবারের মাধ্যমে লিভারে সংক্রমনঘটায় আর অন্যরা রক্ত, রক্তরস বা দেহনিঃসৃত রস দ্বারা বিস্তার লাভ করে থাকে।ভাইরাস ছাড়াও যারা অ্যালকোহল ও কোনো কোনো ওষুধেও হেপাটাইটিস-এ আক্রান্তহতে পারে। এমনকি কোনো কারণ ছাড়াও অটোইমিউন হেপাটাইটিস হতে পারে।
কোন হেপাটাইটিস কোন ধরনের : একিউট হেপাটাইটিসের মধ্যে সাধারণত 'এ' এবং 'ই' ভাইরাসকে ধরা হয়ে থাকে । আরেক দিকে 'বি', 'সি' ও 'ডি' ভাইরাসকে ক্রনিকহেপাটাইটিস বলা হয়ে থাকে। এই ক্রনিক হেপাটাইটিস লিভারকে মারাত্দক ভাবে তারকার্যক্ষমতাকে ব্যাহত করে থাকে, যার কারণে লিভার ক্যান্সার, লিভার সিরোসিস ওফেইল্যুরের মতো অসুখ হয়।
হেপাটাইটিস 'এ' : ইহার একটি ক্ষুদ্র আরএনএভাইরাস। যাহা খাদ্য ও পানির মাধ্যমে বিস্তার লাভ করে থাকে। শিশু বয়সে এইভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বেশি। একবার এই ভাইরাস আক্রমণ হলেদ্বিতীয় বার আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। এই ভাইরাস প্রতিরোধে উপযুক্তচিকিৎসা ও টিকা চলে এসেছে।
হেপাটাইটিস 'ই' : এই ভাইরাস অনেকটা 'এ' ভাইরাসের মতোই। এর ভয়াবহ খারাপ দিক হলো গর্ভবতী মায়েদের জন্য। শতকরা ২২-২৫ভাগ ক্ষেত্রে গর্ভবতী মায়েদের জন্ডিসে আক্রান্ত হয়ে মারা
যাওয়ার মূল কারণ হলো এই 'ই' ভাইরাস। এর প্রতিষেধক এখনো চিকিৎসা বিজ্ঞানে আবিস্কারের পথে রয়েছে এবং পরীক্ষাধীন অবস্থায় রয়েছে।
হেপাটাইটিস 'বি' : হেপাটাইটিস 'বি' ভাইরাস মানবদেহে জটিল একটি রোগের অন্যতম। ইহা একটিমারাত্দক ডি এন এ ভাইরাস। হেপাটাইটিস 'বি' এইডসের থেকেও ১০০ গুণ বেশিসংক্রামক। ইহা দেহের বাইরে সুপ্ত অবস্থায় রক্তে ৭ দিন বেঁচে থাকতে পারে।আমাদের দেশে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীতে শতকরা ৩ থেকে ৬ ভাগ মানুষ এই হেপাটাইটিস 'বি' দ্বারা আক্রান্ত। সঠিক নিয়মে এর চিকিৎসা নিলে এবং টিকা দিয়ে এরপ্রতিরোধ করা সম্ভব।
হেপাটাইটিস 'সি' : হেপাটাইটিস 'বি' ভাইরাস মতোই, হেপাটাইটিস 'সি' ভাইরাস একটি মারাত্দক জীবানু। একে টাইম বোমার সঙ্গে তুলনাকরা হয়। কারণ শতকরা ৯০ ভাগ ক্ষেত্রেই 'এ' ভাইরাসে আক্রন্ত রোগীরাদীর্ঘমেয়াদি লিভার রোগী হবে বলে প্রমাণিত হয়েছে। তারপর একটা সময়ে লিভারসিরোসিস ও লিভার ক্যান্সারের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। হেপাটাইটিসের কোনো টিকা নেই।
হেপাটাইটিস 'বি' ও 'সি' ভাইরাস কিভাবে ছড়ায় : রোগাক্রান্ত মায়ের থেকে শিশুতে।
রক্ত ও রক্ত উপাদান থেকে, যদি তা পরিক্ষিত না হয়।
ইনজেকশনের সুচ যদি একধিক দেহে ব্যবহার করা হয় সে ক্ষেতে আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে ছড়াতে পারে।
'বি' ও 'সি' ভাইরাস দ্বারা দূষিত যন্ত্রপাতির ব্যবহারের ফলে। দাঁতে ব্রাশ, রেজার, ব্লেড ইত্যাদির মাধ্যমে।
অনিরাপদ যৌন ক্রিয়ার মাধ্যমে।
হেপাটাইটিস প্রতিরোধ : নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন,
নিরাপদ যৌন চর্চা, বিশুদ্ধ ও জীবাণু মুক্ত সুই ও সিরিঞ্জ ব্যবহার করে হেপাটাইটিস 'এ' ও 'বি' এর
প্রতিরোধক টিকার মাধ্যমে।
সূত্র - bd-pratidin.com

