ক্ষুধার কারণে অনেক সময় আমরা কী খাচ্ছি, কী পান করছি এ ব্যাপারে একেবারেই অসচেতন হয়ে পড়ি। কিন্তু এই অসচেতনতার কারণেই দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্য সমস্যা কিংবা পেটের পীড়ায় ভুগতে হয়। রাস্তা-ঘাট কিংবা কথিত অভিজাত হোটেল থেকে কিনে নেওয়া খাবার অপরিচ্ছন্ন ও রাসায়নিক পদার্থমিশ্রিত হওয়ার কারণে বিষক্রিয়ায় ভুগতে হয় অনেকদিন ধরে। তবে সচেতনতা বাড়ালে খাদ্যের বিষক্রিয়া প্রতিরোধ করে যাপন করা যেতে পারে সুস্থ জীবন।
এ পর্যায়ে থাকছে বিষক্রিয়া প্রতিরোধের প্রয়োজনীয় পরামর্শ।
খাবারে রোগ জীবাণুর (ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস) আক্রমণের ফলে শরীরে যে বিষক্রিয়া হয় তাকেই সাধারণ ফুড পয়জনিং বা খাদ্যের বিষক্রিয়া বলা হয়ে থাকে। সালমনিলা, ই.কলি নামক ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে সাধারণত খাদ্যে বিষক্রিয়া দেখা যায়।কীভাবে খাবারে জীবাণু সংক্রমণ হয় খোলা জায়গায় খাবার রাখলে। খাবার ৫ ডিগ্রি তাপমাত্রার নিচে সংরক্ষণ না করলে। স্বাভাবিক তাপমাত্রায় খাবার অনেকক্ষণ পড়ে থাকলে। যেকোনো কারণে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হলে।খাবারের বিষক্রিয়ার উপসর্গ সাধারণত জীবাণু বা ব্যাকটেরিয়ামিশ্রিত খাবার খাওয়ার ১ থেকে ৩ দিনের মাথায় খাদ্যের বিষক্রিয়া শরীরে পরিলক্ষিত হতে পারে। বিষক্রিয়ার উপসর্গগুলো হলো শরীর দুর্বল হয়ে পড়া। বমি হওয়া। ঘন ঘন পাতলা পায়খানা হওয়া। পাকস্থলির সংকোচনের ফলে পেটে ব্যথা হওয়া। ক্ষুধা নষ্ট হয়ে যাওয়া। শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ১০০.৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত হওয়া। সারা শরীরে ব্যথা অনুভব হওয়া। শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া।নিম্নোক্ত উপসর্গগুলো দেখা গেলে অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে বমি যদি ২ দিনের চেয়ে বেশি থাকে।
যদি পাতলা পায়খানা ৩ দিন বা তার চেয়ে বেশি থাকলে।
যদি রক্ত বমি হয়।
যদি পায়খানার সাদা রক্ত বের হয়।
স্মৃতি শক্তি যদি লোপ পায়।
যদি মাঝে মাঝে চোখে দেখতে সমস্যা হয়।
যদি মুখ শুকিয়ে আসে।
প্রাথমিক চিকিৎসা
পানি পান সহ প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার খেতে হবে।
সহজে হজম হয় এমন খাবার খেতে হবে বেশি বেশি।
অবশ্যই ওরস্যালাইন খেতে হবে বেশি বেশি। তবে যদি উচ্চ রক্তচাপ থাকে তাহলে ওরস্যালাইন খাওয়া যাবে না।
পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে।
ক্ষুধা লাগলেই পেটভরে খেতে হবে।
সিগারেট, অ্যালকোহল, চা, এবং অন্যান্য চর্বি জাতীয় খাবার পরিহার করতে হবে।
চূড়ান্ত চিকিৎসা
যদি ৩ থেকে ৪ দিনের বেশি অসুস্থতা থাকে, তবে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ খেতে হবে।
বাড়াতে হবে সচেতনতা
খাবারে পরিষ্কার-পরিছন্নতা রক্ষা করতে হবে।
ভাল করে রান্না করা খাবার খেতে হবে।
খাদ্যে যাতে রোগ জীবাণু সংক্রমণ করতে না পারে, সেজন্য খাবার ঢেকে রাখতে হবে
সূত্র - বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

