বিশ্বে গত কয়েক বছরে বিবাহ বিচ্ছেদের হার আতঙ্কজনক ভাবে বেড়ে গেছে। অনেকক্ষেত্রে দেখা যায় বিয়ের পর যত দিন গড়াতে থাকে পারস্পরিক সহমর্মিতা কিংবাআকর্ষণ বোধ ধীরে ধীরে ফিকে হতে থাকে। স্বামী বা স্ত্রীর ছোট খাটো খুঁত আস্তেআস্তে বড় হয়ে দেখা দিতে থাকে। এক সময় দাম্পত্যের বন্ধনকে বোঝা মনে হয়।ভার মুক্তির জন্য তখন বিবাহ বিচ্ছেদ ছাড়া আর উপায় থাকে না।
আপনার যদি মনেহয় স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে আগের মতো আর আপনার তাল মিলছে না, সম্পর্কেতিক্ততা বেড়েই চলেছে; তাহলে ধরে নিতে পারেন আপনার দাম্পত্য জীবন ঝুঁকিরমধ্যে। পরিস্থিতি ডিভোর্সের মতো বেদনাদায়ক পর্যায়ে গড়াতে পারে।
এ অবস্থায় আপনার বিয়েটা শেষ পর্যন্ত টিকবে কি না, তা বুঝতে নিচের সাধারণ লক্ষণগুলো আপনাকে সাহায্য করবে:
দুটি হৃদয় এখন আর আগের মতো অভিন্ন নয়
বিয়েমানব-মানবীর হৃদয়ে এক অদৃশ্য বন্ধন তৈরি করে। স্বামী-স্ত্রীর দুই দেহে যেনএক প্রাণ। ভালোবাসার বন্ধন স্বামী-স্ত্রীকে দুঃখ-কষ্টে মানসিক ভাবে এক করেরাখে। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে একজন আরেকজনের ভাগ নেয়; বিশেষ করে, সংসারেসন্তান এলে এই পারস্পরিক দায়িত্বের ভাগাভাগির মানসিকতা বেড়ে যায়। কিন্তুআপনার যদি মনে হয় আগের মতো আর আপনি আপনার স্বামী বা স্ত্রীর প্রতিদায়িত্বশীলতা অনুভব করছেন না, সংসারের কোনো বিষয়ে একা একাই সিদ্ধান্তনিচ্ছেন; এমনকি ছুটির দিনে স্বামী বা স্ত্রীকে সময় না দিয়ে একাই বাইরে থেকেবেড়িয়ে আসছেন—তাহলেই বুঝবেন সম্পর্কে বড় ধরনের চিড় ধরেছে। আপনার দাম্পত্যবন্ধন হুমকির মুখে।
প্রতারণা
বর্তমানে যত ডিভোর্সের ঘটনা ঘটছে তারবেশির ভাগেরই মূল কারণ প্রতারণা। পুরোনো একটি প্রবাদ আছে: ‘বিশ্বাস হলোআয়নার মতো। আয়না একবার ভেঙে গেলে তা আপনি জোড়া লাগাতে পারেন, তাতে মুখওদেখতে পারেন। কিন্তু ভাঙা আয়নার ভাঙা দাগ থেকেই যাবে।’ কোনো স্ত্রী যদিস্বামীর সঙ্গে কিংবা কোনো স্বামী যদি তার স্ত্রীর সঙ্গে একবার প্রতারণা করেবা ঠকায়, তাহলে অবিশ্বাসের দাগ প্রতারিত স্বামী বা স্ত্রীর মনে স্থায়ীভাবেগেথে যায়। প্রতারিত স্বামী বা স্ত্রী সব সময় তার সঙ্গীকে সন্দেহের চোখেদেখতে থাকে। ভবিষ্যতে আবার প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা এক পর্যায়ে তাকে ডিভোর্সেরফাইলে সই করতে বাধ্য করে।
দুজনের দুই রকমের ভাবনা
বিয়ের পর সাধারণতস্বামী-স্ত্রী দুজনের ভাবনা ও ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা অভিন্ন থাকে। কিন্তুসময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই অভিন্ন ভাবনা ভিন্ন হয়ে যেতে পারে। ধরুন, আপনি ঠিককরলেন স্ত্রী-সন্তান নিয়ে উন্নত বিশ্বের কোনো একটি দেশে স্থায়ী ভাবে চলেযাবেন। উন্নত জীবনযাপন করবেন। কিন্তু দেখা গেল আপনার স্ত্রী দেশেই ভালোকিছু করার কোনো পরিকল্পনা করে বসে আছেন। এ নিয়ে মন কষাকষি হলে বুঝবেনআপনাদের অভিন্ন ভাবনার জগিট অদৃশ্য আত্মকেন্দ্রিকতার ঘুণে নষ্ট করে ফেলেছে।বুঝবেন আপনাদের পারস্পরিক রোমাঞ্চকর ভাব বিনিময়ে ঘাটতি রয়েছে। সর্বোচ্চ ছাড়দিয়ে এই ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব না হলে বিবাহ বিচ্ছেদ অবশ্যম্ভাব
পরস্পরকে বোঝার চেষ্টার অভাব
পরস্পরের মধ্যেভাবনা বিনিময় জোরালো দাম্পত্য সম্পর্কের পূর্ব শর্ত। আপনি যদি আপনার স্বামীবা স্ত্রীর সঙ্গে নিজের ভাবনা শেয়ার না করেন, তাঁর সঙ্গে সারাক্ষণনিরস-নিরুত্তাপ কথাবার্তা বলেন; সংসারের তেল নুন ডালের আলাপ-আলোচনাতেইদিন-রাত পার করেন, তাহলে বুঝবেন সম্পর্কে দূরত্ব বেড়েছে। একঘেয়েমি সাংসারিকআলোচনায় এক সময় হাঁপিয়ে উঠবেন, যা ডিভোর্সের মতো পরিণতি বয়ে আনতে পারে।
সুস্থ যৌন সম্পর্কের ঘাটতি
বিয়ের পরপর যৌন সংসর্গেস্বামী-স্ত্রীর যে আগ্রহ থাকে, সময়ের সঙ্গে সেই আগ্রহে ভাটা পড়া খুবইস্বাভাবিক। কিন্তু যদি দেখেন যথেষ্ট তারুণ্য ও শারীরিক সক্ষমতা থাকার পরওআপনি আপনার স্বামী বা স্ত্রীর সংসর্গে অনীহা বোধ করছেন, তাহলে বুঝবেন সংসারভাঙনের পথে। বাস্তবতা হলো স্বামী-স্ত্রীর স্বাভাবিক বন্ধন টিকিয়ে রাখারপ্রধান শর্তই হল সুস্থ ও স্বাভাবিক যৌন সম্পর্ক।
অর্থকড়িও কাল হতে পারে
ধরুন স্বামী বা স্ত্রীরসঙ্গে আপনার সম্পর্ক শীতল হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় আপনার স্বামী বা স্ত্রী যদিআপনার উপার্জন, সঞ্চয়, বিনিয়োগ, ঋণ ইত্যাদি নিয়ে হঠাত্ করে বেশি আগ্রহীহয়ে ওঠেন, তাহলে সেটাকে খারাপ লক্ষণ হিসেবে মনে করা যেতে পারে। ডিভোর্সেরপর আপনার স্বামী বা স্ত্রী আপনার সম্পদের কতটুকু হিস্যা পাবেন, তাহিসাব-নিকাশ করার জন্যই এমনটা করছেন বলে ধরে নেওয়া যেতে পারে। মনে রাখবেন, বিয়ের সময় আর্থিক বিষয়টি ততটা বড় হয়ে সামনে না এলেও ডিভোর্সের সময় কোনোপক্ষই ছাড় দেয় না। কড়ায়-গন্ডায় নিজের হিস্যা বুঝে নেয় (অবশ্য এ ধরনেরমানসিকতা পশ্চিমাদের মধ্যে প্রকট থাকলেও আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে ততটানেই)।
আগের চেয়ে ঝগড়া প্রবণ হয়ে ওঠা
দাম্পত্য জীবনেভুল বোঝাবুঝি ও ঝগড়া হবেই। তবে স্বাভাবিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই ঝগড়া খুবইক্ষণস্থায়ী। প্রচণ্ড ঝগড়ার পর দিনের শেষে স্বামী বা স্ত্রীর কানে ফিসফিসকরে একটা ‘ম্যাজিক ওয়ার্ড’ উচ্চারণ করলেই সব রাগ এক মুহূর্তে পানি। কিন্তুযদি দেখেন আপনি আপনার স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে সারাক্ষণই রূঢ় ভাষায় কথাবলছেন। দুজনই খিটমিটে আচরণ করছেন এবং তার জন্য অনুশোচনাবোধ করছেন না। এঅবস্থায় বুঝবেন সম্পর্কের স্থায়িত্ব নিয়ে ভাবার সময় এসে গেছে।
সূত্র - প্রথম আলো

