বর্তমান বিশ্বে চায়ের পাশাপাশি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কফি। এক কাপ ধোঁয়া ওঠা কফি মুহূর্তে দূর করে দিতে পারে সকল ক্লান্তি। শুধু তাই নয়, কফির রয়েছে বহুমাত্রিক গুণ। ৮ আউন্স কফিতে প্রায় ১৩৫ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন থাকে যা মানুষের ওপর উত্তেজক প্রভাব ফেলে ও উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে।
কফি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিক্রিত পণ্য (জ্বালানি তেলের পরে)। বিশ্বের সবচেয়ে বড় কফি প্রস্তুতকারক কোম্পানি স্টারবার্কেরর ২০ হাজার ৮৯১টি কফিস্টোরের মধ্যে শুধু আমেরিকাতে রয়েছে ১৩ হাজার ২৭৯টি। এক জরিপে দেখা গেছে, ১৮ বা তার বেশি বয়সের ৫৪ শতাংশ আমেরিকান প্রতিদিন কফি পান করেন।যুক্তরাষ্ট্রে ২৯ সেপ্টেম্বর তারিখে জাতীয় কফি দিবস পালন করা হয়।
চিকিৎসকরা বলছেন, সারাদিনে ২/৩ কাপ কফি পান করলে সেরে যেতে পারে স্কিন ক্যানসার, কমতে পারে হার্টের দুর্বলতা এবং লিভারও সুস্থ থাকবে। আর লিভার ঠিক থাকলে মনও ভালো থাকবে।
মজার ব্যাপার হলো কফি পান করলে আত্মহত্যার প্রবণতা অনেকাংশেই কমে যায়। আর এ তথ্যটি দিয়েছে হার্ভাড স্কুল অফ পাবলিক হেলথ, তাদের পত্রিকা দ্য ওর্য়াল্ড জার্নাল অফ বায়োলজিক্যাল স্যাইকিয়াট্রি। তারা ষোল বছর ধরে দুই লক্ষ মানুষের ওপর গবেষণা করে দেখেছেন কফি মানুষের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। এতে স্নায়ু অনেক বেশি সজাগ থাকে। মানুষের কাছে কফিনেশার বস্তু হলেও হতাশা, বুকের ধরফরানি কমাতে সেরোটিন, ডোপামিনের মতো হরমনগুলিকে সক্রিয় করে তোলে। তখন মানুষের ভাবনা, চিন্তাশক্তি করার ক্ষমতা সঠিক সময়ে ঠিকঠাক কাজ করে।
ব্রাইহাম অ্যান্ড উইমেন হসপিটাল অ্যান্ডহার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুল ২০ বছরেরও বেশি সময় লক্ষাধিক নারী-পুরুষের ওপর একটি গবেষণায় দেখিয়েছে, যেসব নারী প্রতিদিন তিন বা ততোধিক কাপ কফি পান করেন তাদের ত্বকের ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি যারা করেন না তাদের চেয়ে অনেক কম।
নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিজ্ঞানী ও অ্যাথলেটরা বিশ্বাস করেন ভালোঅ্যাথলেটিক পারফরম্যান্সের জন্য মাঠে নামার আগে এক কাপ কফি তাদের জন্য ওষুধের মতো কাজ করে। আর এটি দৌড় বা সাইক্লিংয়ের মতো কঠিন খেলার জন্য খুবই কার্যকরী। কফির ক্যাফেইন রক্তে ফ্যাটি এসিডের সৃষ্টি করে, যা অ্যাথলেটের মাংসপেশী শোষণ করে বা পুড়িয়ে শক্তি তৈরি করে। তাই কফি চূড়ান্ত বাঁশি বাজার আগে দেহে কার্বোহাইড্রেট সঞ্চয় করে অ্যাথলেটদের সাহায্য করে।
ইউনিভার্সিটিঅব সাউথ ফ্লোরিডা এবং ইউনিভার্সিটি অব মিয়ামির গবেষকরা জানিয়েছেন, কফিতে বিদ্যমান ক্যাফেইন স্মৃতি ভ্রষ্টতা বা অ্যালজেইমার্স প্রতিরোধ করে। ৬৫ বাতার বেশি বয়সী ব্যক্তিদের ওপর চালানো গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন তিন কাপ কফি পানের কারণে তাদের মনে রাখার ক্ষমতা বেড়েছে।
সিএনএনের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কফি মানুষের বুদ্ধিকেও কিছুটা শাণিত করতে পারে। কফির উপাদান ক্যাফেইন মনো উদ্দীপক দ্রব্য, যা স্নায়বিক কর্মকাণ্ডকে ত্বরান্বিত করতে পারে। নিয়মিত কফি পানে মানসিক অবস্থার উন্নতি হতে পারে।মনো সংবেদনশীলতা বাড়তে পারে, স্মৃতিশক্তির উন্নতি হতে পারে এবং সামগ্রিক ভাবে গঠনমূলক মনোভাব তৈরিতে সহায়ক হতে পারে।
আমেরিকার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কফি গলব্লাডার বা পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমায়। 'হার্ভার্ড স্কুল অবপাবলিক হেলথ'-এর গবেষকগণ এক পরীক্ষায় দেখেছেন যে, যারা দিনে অন্ততপক্ষে চারকাপ করে কফি খান তাদের পিত্তথলিতে পাথর হবার ঝুঁকিটা অনেকাংশেই কমে যায়।
তবে একটা কথা মনে রাখা জরুরি আর তা হলো কফি অবশ্যই ক্যাফেইন সমৃদ্ধ হতে হবে।ক্যাফেইন মুক্ত কফি পান করে আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়া যায় না। তাছাড়া কফির পরিমাণ যেন সহনশীল মাত্রার মধ্যে থাকে সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।
সূত্র - বাংলাদেশ প্রতিদিন

