হয়তো মানব জাতির সৃষ্টির শুরু থেকেই নারী জাতির প্রসাধনীর চর্চা চলে আসছে। একজন রমণীর রূপের পূর্ণতা কিছুতেই যেন আর আসে না এই প্রসাধনী ছাড়া। তাই নারীর জীবন আর যৌবন, স্বপ্ন আর কল্পনা এর সব কিছুতেই আছে যেন প্রসাধনীর ছোঁয়া।প্রসাধনীর ছোঁয়াতে আমেজ যতটুকু তার চেয়েও বেশি হচ্ছে তার চমকের ছোঁয়া; কিন্তু সেই প্রসাধনী ব্যবহারেরও আছে নানা সমস্যা। বাজারে যে বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনী সামগ্রী পাওয়া যায় তা থেকে সৃষ্টি হতে পারে ত্বকের প্রদাহ, হতে পারে অ্যালার্জি। আর এই প্রসাধনী জনিত প্রদাহকে ৩ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যেমন_ (ক) প্রাথমিক উত্তেজনা সৃষ্টিকারী (খ)সালোকসংবেদন জনিত (গ) অ্যালার্জি জনিত।
প্রথমেই আসা যাক_ নখ পালিশের কথায়। এই নখপালিশ ব্যবহার করে না এমন একজনও মহিলা খুঁজে বের করা মহা দুরূহ ব্যাপার।অথচ এই নখ পালিশে থাকে সালফেনোমাইড, থাকে ফরমালডিহাইড রেজিন যা ব্যবহারের ফলে গলায় এমনকি চোখের পাতাও প্রদাহের সৃষ্টি হতে পারে। আবার অনেকেরই ফলে গলায় এমনকি চোখের পাতায়ও প্রদাহের সৃষ্টি হতে পারে। আবার অনেকেরই অভ্যাস আছে নখপালিশ বারবার তুলে নতুন নখপালিশ লাগানোর। এই তোলার জন্য যে পদার্থ ব্যবহার করা হয় তাতে থাকে ভ্যাসিটোন যার থেকে নখের ক্ষয়ও হতে পারে।
চুল পাকলে অনেকেই আবার কলপ ব্যবহার করেন। চুলের কলপে থাকে প্যারাফিনাইল ডাইঅ্যামাইন তা থেকে অনেকের ক্ষেত্রেই দেখবেন ব্যবহারের পর পরই মাথায় কিংবা গোঁফ বা দাড়িতে অ্যালার্জির সৃষ্টি হয়। তাই এ ধরনের কলপ আপনার ত্বকে অ্যালার্জির সৃষ্টি করবে কিনা তা কানের লতির পেছনে ২৪ ঘণ্টা লাগিয়ে রাখতে পারেন। যদি সেখানে এলার্জির সৃষ্টি করে তবে তা আপনি যেখানেই ব্যবহার করবেন সেখানেই অ্যালার্জির সৃষ্টি করবে। তাই অবশ্যই তা ব্যবহার না করাই উচিত।ইউরোপের মেয়েরা আবার মাথার চুলের রঙ সাদা বানাতেও পছন্দ করে। চুলের রঙ সাদা বানাতে যে কেমিক্যাল যেমন পারসাইড ও অ্যামোনিয়া ব্যবহার করা হয় তা প্রায়ই প্রাথমিক উত্তেজনা জনিত প্রদাহ বা অ্যালার্জির সৃষ্টি করে।
চুল কোঁচকানো বা সোজা করা বর্তমান যুগের একটি অন্যতম ফ্যাশন, এর জন্য যে পদার্থগুলো ব্যবহারকরা হয় তার থেকে সাধারণত কোনো বিক্রিয়া বা প্রদাহ বা অ্যালার্জির সৃষ্টি হয় না সত্য; কিন্তু এর ফলে চুল ভঙ্গুর হয়ে পড়তে পারে। চুলের ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন স্প্রে এখন বাজারে ভরা। আমরা প্রতিনিয়ত তার ব্যবহার করে চলছি।যাতে থাকে ল্যানোলিন যা অ্যালার্জি সৃষ্টি করতে পারে। বাজারে আবার বিভিন্ন হেয়ার লোশন বা টনিকও পাওয়া যায়, সিনকোনার টিংচার তার থেকে অ্যালার্জির সৃষ্টি হতে পারে।
আবার সুগন্ধি পদার্থ ব্যবহারের অভ্যাস আমাদের অনেকেরই। এই সুগন্ধি পদার্থের ব্যবহার সামগ্রীও আপনার ত্বকে অ্যালার্জি সৃষ্টি করতে পারে। কারণ তাতে থাকতে পারে রিসোর্সিন, কুইনাইন সালফেট ইত্যাদি।
নারীর জীবনে লিপস্টিকের ব্যবহার হয় না এটা যেন কল্পনাও করা যায় না। এই লিপস্টিকে যে রঞ্জক পদার্থ থাকে তার থেকে কিন্তু অনেক মহিলার ঠোঁটেই অ্যালার্জির সৃষ্টি হয়ে থাকে। কারণ এতে ডাই এবং টেট্টা ব্রোমোফোরোসিন ব্যবহার করা হয়ে থাকে। কাজেই যারা ঠোঁটের সমস্যায় ভোগেন; তারা লক্ষ্য করবেন, লিপস্টিক ব্যবহার করার পর তা বাড়ে কিনা?
একটা ভালো অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে মাস্কারা আইস্যাডো বা আইলাইনার কে না ব্যবহার করে? মনে রাখবেন এর থেকেও অ্যালার্জির সৃষ্টি হতে পারে।
যাদের ত্বক একটু কালো কিংবা রৌদ্রে গেলে কালছে দেখা যায় আমরা তাদের সানস্ক্রিন লোশন বা ক্রিম ব্যবহারের পরামর্শ দিই। দেখা গেছে, তার থেকেও মুখে অ্যালার্জির সৃষ্টি হতে পারে।মুখের ব্রণ বা অন্য কোনো সমস্যা নিয়ে ডাক্তারের কাছে গেলে হয়তো কোনো মলম জাতীয় ওষুধ মুখে ব্যবহার করতে বলেন। মনে রাখবেন ডাক্তারের দেয়া সেই মলমটিও যদি আপনার মুখে অ্যালার্জির সৃষ্টি করে তাতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই।
বগলে যাদের দুর্গন্ধ হয় তারা দুর্গন্ধ নিবারক স্প্রে বা পদার্থ ব্যবহার করেন। তাতে থাকে ফ্লোরাইড বা জিংক সল্ট যাও কিনা আপনার ত্বকে অ্যালার্জি বা প্রদাহ সৃষ্টির কারণ হতে পারে। কোথাও বেড়াতে গেলে নতুন জামা-কাপড় পরার অভ্যাস আমাদের অনেকেরই। মনে রাখবেন কাপড়কে রঙিন করতে, শক্ত আর চকচকে করতেএক ধরনের পদার্থ ব্যবহার করা হয়। যা ঘামে আর গরমে দ্রবীভূত হয়ে ত্বকে লাগালে ত্বকের গায়ে প্রদাহের বা অ্যালার্জির সৃষ্টি হতে পারে।
উপসংহারে শুধু একটি কথাই বলতে চাই। দিন যতই বাড়ছে ততই বাড়ছে প্রসাধনীর সংখ্যা। তাই বিভিন্ন প্রসাধনীর নির্বিচার ব্যবহার না করাই উচিত এবং বারবার প্রসাধনীর পরিবর্তন যুক্তি সঙ্গত নয়। যার যেটায় অ্যালার্জি হয় না সেটাই ধরে রাখা ভালো।তবে একটি কথা অবশ্যই মনে রাখতে হবে একটি বিশেষ প্রসাধনী দীর্ঘদিন ব্যবহারের পরেও তার দেহে সেই প্রধাসনী থেকেও অ্যালার্জির সৃষ্টি হতে পারে।
সূত্র - যায়যায়দিন

