home top banner

Health Tip

কসমেটিক থেকে অ্যালার্জি
22 October,13
Tagged In:  cosmetic allergies  
  Viewed#:   130

হয়তো মানব জাতির সৃষ্টির শুরু থেকেই নারী জাতির প্রসাধনীর চর্চা চলে আসছে। একজন রমণীর রূপের পূর্ণতা কিছুতেই যেন আর আসে না এই প্রসাধনী ছাড়া। তাই নারীর জীবন আর যৌবন, স্বপ্ন আর কল্পনা এর সব কিছুতেই আছে যেন প্রসাধনীর ছোঁয়া।প্রসাধনীর ছোঁয়াতে আমেজ যতটুকু তার চেয়েও বেশি হচ্ছে তার চমকের ছোঁয়া; কিন্তু সেই প্রসাধনী ব্যবহারেরও আছে নানা সমস্যা। বাজারে যে বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনী সামগ্রী পাওয়া যায় তা থেকে সৃষ্টি হতে পারে ত্বকের প্রদাহ, হতে পারে অ্যালার্জি। আর এই প্রসাধনী জনিত প্রদাহকে ৩ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যেমন_ (ক) প্রাথমিক উত্তেজনা সৃষ্টিকারী (খ)সালোকসংবেদন জনিত (গ) অ্যালার্জি জনিত।

প্রথমেই আসা যাক_ নখ পালিশের কথায়। এই নখপালিশ ব্যবহার করে না এমন একজনও মহিলা খুঁজে বের করা মহা দুরূহ ব্যাপার।অথচ এই নখ পালিশে থাকে সালফেনোমাইড, থাকে ফরমালডিহাইড রেজিন যা ব্যবহারের ফলে গলায় এমনকি চোখের পাতাও প্রদাহের সৃষ্টি হতে পারে। আবার অনেকেরই ফলে গলায় এমনকি চোখের পাতায়ও প্রদাহের সৃষ্টি হতে পারে। আবার অনেকেরই অভ্যাস আছে নখপালিশ বারবার তুলে নতুন নখপালিশ লাগানোর। এই তোলার জন্য যে পদার্থ ব্যবহার করা হয় তাতে থাকে ভ্যাসিটোন যার থেকে নখের ক্ষয়ও হতে পারে।

চুল পাকলে অনেকেই আবার কলপ ব্যবহার করেন। চুলের কলপে থাকে প্যারাফিনাইল ডাইঅ্যামাইন তা থেকে অনেকের ক্ষেত্রেই দেখবেন ব্যবহারের পর পরই মাথায় কিংবা গোঁফ বা দাড়িতে অ্যালার্জির সৃষ্টি হয়। তাই এ ধরনের কলপ আপনার ত্বকে অ্যালার্জির সৃষ্টি করবে কিনা তা কানের লতির পেছনে ২৪ ঘণ্টা লাগিয়ে রাখতে পারেন। যদি সেখানে এলার্জির সৃষ্টি করে তবে তা আপনি যেখানেই ব্যবহার করবেন সেখানেই অ্যালার্জির সৃষ্টি করবে। তাই অবশ্যই তা ব্যবহার না করাই উচিত।ইউরোপের মেয়েরা আবার মাথার চুলের রঙ সাদা বানাতেও পছন্দ করে। চুলের রঙ সাদা বানাতে যে কেমিক্যাল যেমন পারসাইড ও অ্যামোনিয়া ব্যবহার করা হয় তা প্রায়ই প্রাথমিক উত্তেজনা জনিত প্রদাহ বা অ্যালার্জির সৃষ্টি করে।

চুল কোঁচকানো বা সোজা করা বর্তমান যুগের একটি অন্যতম ফ্যাশন, এর জন্য যে পদার্থগুলো ব্যবহারকরা হয় তার থেকে সাধারণত কোনো বিক্রিয়া বা প্রদাহ বা অ্যালার্জির সৃষ্টি হয় না সত্য; কিন্তু এর ফলে চুল ভঙ্গুর হয়ে পড়তে পারে। চুলের ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন স্প্রে এখন বাজারে ভরা। আমরা প্রতিনিয়ত তার ব্যবহার করে চলছি।যাতে থাকে ল্যানোলিন যা অ্যালার্জি সৃষ্টি করতে পারে। বাজারে আবার বিভিন্ন হেয়ার লোশন বা টনিকও পাওয়া যায়, সিনকোনার টিংচার তার থেকে অ্যালার্জির সৃষ্টি হতে পারে।

আবার সুগন্ধি পদার্থ ব্যবহারের অভ্যাস আমাদের অনেকেরই। এই সুগন্ধি পদার্থের ব্যবহার সামগ্রীও আপনার ত্বকে অ্যালার্জি সৃষ্টি করতে পারে। কারণ তাতে থাকতে পারে রিসোর্সিন, কুইনাইন সালফেট ইত্যাদি।

নারীর জীবনে লিপস্টিকের ব্যবহার হয় না এটা যেন কল্পনাও করা যায় না। এই লিপস্টিকে যে রঞ্জক পদার্থ থাকে তার থেকে কিন্তু অনেক মহিলার ঠোঁটেই অ্যালার্জির সৃষ্টি হয়ে থাকে। কারণ এতে ডাই এবং টেট্টা ব্রোমোফোরোসিন ব্যবহার করা হয়ে থাকে। কাজেই যারা ঠোঁটের সমস্যায় ভোগেন; তারা লক্ষ্য করবেন, লিপস্টিক ব্যবহার করার পর তা বাড়ে কিনা?

একটা ভালো অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে মাস্কারা আইস্যাডো বা আইলাইনার কে না ব্যবহার করে? মনে রাখবেন এর থেকেও অ্যালার্জির সৃষ্টি হতে পারে।

যাদের ত্বক একটু কালো কিংবা রৌদ্রে গেলে কালছে দেখা যায় আমরা তাদের সানস্ক্রিন লোশন বা ক্রিম ব্যবহারের পরামর্শ দিই। দেখা গেছে, তার থেকেও মুখে অ্যালার্জির সৃষ্টি হতে পারে।মুখের ব্রণ বা অন্য কোনো সমস্যা নিয়ে ডাক্তারের কাছে গেলে হয়তো কোনো মলম জাতীয় ওষুধ মুখে ব্যবহার করতে বলেন। মনে রাখবেন ডাক্তারের দেয়া সেই মলমটিও যদি আপনার মুখে অ্যালার্জির সৃষ্টি করে তাতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই।

বগলে যাদের দুর্গন্ধ হয় তারা দুর্গন্ধ নিবারক স্প্রে বা পদার্থ ব্যবহার করেন। তাতে থাকে ফ্লোরাইড বা জিংক সল্ট যাও কিনা আপনার ত্বকে অ্যালার্জি বা প্রদাহ সৃষ্টির কারণ হতে পারে। কোথাও বেড়াতে গেলে নতুন জামা-কাপড় পরার অভ্যাস আমাদের অনেকেরই। মনে রাখবেন কাপড়কে রঙিন করতে, শক্ত আর চকচকে করতেএক ধরনের পদার্থ ব্যবহার করা হয়। যা ঘামে আর গরমে দ্রবীভূত হয়ে ত্বকে লাগালে ত্বকের গায়ে প্রদাহের বা অ্যালার্জির সৃষ্টি হতে পারে।

উপসংহারে শুধু একটি কথাই বলতে চাই। দিন যতই বাড়ছে ততই বাড়ছে প্রসাধনীর সংখ্যা। তাই বিভিন্ন প্রসাধনীর নির্বিচার ব্যবহার না করাই উচিত এবং বারবার প্রসাধনীর পরিবর্তন যুক্তি সঙ্গত নয়। যার যেটায় অ্যালার্জি হয় না সেটাই ধরে রাখা ভালো।তবে একটি কথা অবশ্যই মনে রাখতে হবে একটি বিশেষ প্রসাধনী দীর্ঘদিন ব্যবহারের পরেও তার দেহে সেই প্রধাসনী থেকেও অ্যালার্জির সৃষ্টি হতে পারে।


সূত্র - যায়যায়দিন

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: কফির বহুমাত্রিক গুণ
Previous Health Tips: গর্ভাবস্থায়ও সুন্দর ত্বক

More in Health Tip

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... See details

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... See details

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... See details

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... See details

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... See details

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')