হরমোনকে বলা হয় কেমিক্যাল বাহক, এটি মূলত এন্ডোক্রাইন গ্রন্থি দ্বারা নিঃসৃত হয়। এন্ডোক্রাইনের
সাথে আরও গ্রন্থি থাকে যেমন - থাইরয়েড গ্রন্থি, পিটুইটারি গ্রন্থি, অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি, প্যারা থাইরয়েড
গ্রন্থি, টেস্টিস, ওভারিস ইত্যাদি। হরমোন যে স্থান থেকে উৎপন্ন হয় সেখান থেকে রক্তের প্রবাহের
মাধ্যমে যেখানে এটি কাজ করে সেই স্থানে উপস্থিত হয়। যেমন - গ্রোথ হরমোনের কারণে দেহ বৃদ্ধি
ঘটে, প্যারা থারমোন এবং ক্যালসিটোনিন শরীরের ক্যালসিয়াম ব্যালেন্স করে, করটিকোস্টেরয়েড
নিউরোট্রান্সমিটার হিসেবে কাজ করে, সেক্স হরমোন যেমন - ইস্ট্রোজেন, প্রজেস্টেরোন এবং
টেস্টোস্টেরোন ইত্যাদি মানব শরীরের বিভিন্ন যৌন বৈশিষ্ট্যের জন্য দায়ী।
দেখা যাচ্ছে, মানব শরীরের অতি গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলি সম্পাদন করতে যথাযথ হরমোনের উপস্থিতি অতি জরুরী।
এই সকল হরমোনের উৎপাদন বা যথাযথ কার্য সঠিকভাবে সম্পাদনে সামান্য হেরফের হলে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ
কার্যকলাপ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
নিম্নে মহিলাদের শরীরের বয়সের সাথে হরমোনাল ইমব্যালেন্সের লক্ষণ সমূহ উল্লেখ করা হল -
অবিরাম ক্লান্তি
শরীর সবসময় যেন ক্লান্ত থাকে। সারাক্ষন মনে হয় অনেক স্ট্রেসের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে শরীর। এটি হতে পারে
এড্রেনাল গ্রন্থি থেকে অতিরিক্ত করটিসলের নিঃসরণ। অতিরিক্ত করটিসল হরমোন অন্য হরমোনের কাজেও
বাধা দেয় এবং শরীরের ক্লান্তির সৃষ্টি করে।
বারবার মন মেজাজের পরিবর্তন
হরমোনাল ইম্ব্যালেন্সের আরেকটি প্রধান উপসর্গ হল কারণে অকারনে মন মেজাজের পরিবর্তন। নিজের
অনুভূতির এবং রাগের উপর কোন নিয়ন্ত্রণ থাকে না। এই উপসর্গের কারণ হতে পারে - ইস্ট্রোজেন,
প্রজেস্টেরোন এবং টেস্টোস্টেরোন ইত্যাদি হরমোনের ইম্ব্যালেন্স।
অস্বাভাবিক হারে ওজন বেড়ে যাওয়া
যদি জীবনযাপন এবং প্রাত্যহিক কাজকর্ম এবং ব্যয়ামের পরিবর্তন ছাড়াই হঠাৎ ওজন বেড়ে যায় তাহলে বুঝতে
হবে শরীরে হরমোনাল ইম্ব্যালেন্সের কারণে এমন হতে পারে। নারী পুরুষ উভয়ের শরীরের মাসল চর্বিহীন রাখতে
টেস্টোস্টেরোন হরমোন কাজ করে। এই হরমোনের তারতম্য হলে শরীরের মাসলের ওজন হঠাৎ বেড়ে
যায়। যদি করটিসল হরমোনের তারতম্য হয় তাহলে শরীরের অ্যাবডোমিনাল অঞ্চলে চর্বি জমতে শুরু
করে এবং হঠাৎ পেটের চর্বি বেড়ে যায়।
ব্রাইন ফগ
যদি এমন হয় যে ৫ মিনিট আগে ঘটেছে এমন ঘটনা মনে করতে পারছেন না কিংবা সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া
কোন ঘটনা মনে করতে পারছেন না, এমনটি অনেক সময় হরমোনাল ইম্ব্যালন্সের কারণে হয়। প্রোজেস্টেরন
হরমোন কমে গেলে বা ইস্ট্রোজেন হরমোন বেড়ে গেলে এমন হতে পারে।
ইনসমনিয়া
এর অর্থ হচ্ছে ঘুমের অভাব। এর থেকে অন্যান্য শারীরিক সমস্যার উদ্ভব ঘটতে পারে যেমন - স্ট্রেস, ক্লান্তি
এবং বিরক্তির ভাব ইত্যাদি। মেলাটোনিন বা ইস্ট্রোজেন হরমোনের পরিমাণ বেড়ে গেলে এটি প্রোজেস্টেরন
হরমোনের উপর প্রভাব ফেলে। প্রোজেস্টেরন হরমোনের কারণে মানব শরীরের ঘুমের চক্র নির্দিষ্ট নিয়মে
সম্পন্ন হয়।
যৌনতার চাহিদা কমে যাওয়া
যৌনতার চাহিদা কমে যাওয়া হল হরমোনাল ইম্ব্যালন্সের একটি লক্ষণ। টেস্টোস্টেরন হরমোনের সামান্য
তারতম্যের কারণে নারী পুরুষের মাঝে যৌনতার চাহিদা কমে যেতে পারে।
হাড়ের সংযোগস্থলে ব্যথা
সেক্স হরমোন যেমন - ইস্ট্রোজেন, প্রোজেস্টেরোন এবং টেস্টোস্টেরোন এই হরমোন গুলি শরীরে
সাইনোভিয়াল ফ্লুইড নিয়ন্ত্রনের জন্য দায়ী। তাই অস্থির সংযোগস্থলে ব্যথা হওয়ার পেছনেও কারণ হিসেবে
থাকতে পারে হরমোনাল ইম্ব্যালেন্স ।
অতিরিক্ত চুল পড়া কিংবা অতিরিক্ত চুল গজানো
ইস্ট্রোজেনএবং টেস্টোস্টেরোন হরমোনের মাঝে ইম্ব্যালেন্স হলে অতিরিক্ত চুল পড়তে পারে আবার
অন্যদিকে অতিরিক্ত চুল গজাতেও পারে।
অতিরিক্ত ঘাম হওয়া
এটিও হরমোনাল ইম্ব্যালেন্সের একটি লক্ষণ। হাইপোথ্যালামাস হরমোনের ইম্ব্যালেন্সের কারণে শরীরের
মাত্রাতিরিক্ত ঘাম হতে পারে।
উপরে বর্ণিত বেশির ভাগ উপসর্গই সেক্স হরমোনের সাথে জড়িত কারণ এই ৩ টি হরমোন বয়সের সাথে
তারতম্য হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।
সূত্র - www.medicopk.com

