
পাশের বাড়ির ভদ্রলোকের হার্ট অ্যাটাক হয়েছে, শুনে অমনিবুকের বাঁ পাশে ব্যথা শুরু হলো। ছুটে গেলেন হূদেরাগ বিশেষজ্ঞের কাছে।ইসিজি, ইকো, ইটিটি কত কিছু। শারীরিক ও নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসকজানালেন, আপনার কোনো হূদেরাগ নেই। বিশ্বাস হলো না। একের পর এক চিকিৎসক পাল্টে যাচ্ছেন, একই পরীক্ষা একাধিকবার করালেন—কোনো বারই রোগ ধরাপড়ছে না। কিন্তু ধারণা থেকে সরে আসছেন না আপনি।
আবার ধরা যাক, পত্রিকায় পড়েছেন ইদানীং স্তন ক্যানসারেরপ্রকোপ বেড়েছে। সঙ্গে সঙ্গে আপনার মনে হলো সত্যি স্তনে বোধ হয় একটা চাকাআছে। চিকিৎসক দেখালেন, ম্যামোগ্রাফি করালেন। কিছু নেই। কিন্তু চাকাটা যেরয়ে গেছে বলে মনে হচ্ছে! আতঙ্ক যাচ্ছে না কিছুতেই।
আসলে এটা একধরনের মানসিক রোগ, যার নাম হাইপোকন্ড্রিয়াসিস। এ রোগেআক্রান্ত ব্যক্তিরা শারীরিক ছোট বা উপেক্ষণীয় যেকোনো সমস্যাকেই বড় করেদেখেন এবং নিজেদের গুরুতর কোনো রোগে আক্রান্ত বলে বিশ্বাস করেন। পত্রিকারস্বাস্থ্য পাতায় প্রকাশিত কোনো রোগের বিবরণের সঙ্গে নিজের কল্পিত উপসর্গমিলিয়ে নিজেকে রোগী বানিয়ে ফেলেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় কোনো রোগ ধরা পড়েনা, কিন্তু ‘রোগ নেই’—এ কথা তাঁরা মানতে চান না বলে বারবার চিকিৎসক দেখান।একে কোনো মানসিক সমস্যা বলেও তাঁরা মনে করেন না, কারণ রোগটিকে সম্পূর্ণশারীরিক বলেই ধারণা করেন তাঁরা। অথচ এ ধরনের রোগীর মানসিক চিকিৎসা, বিশেষতসাইকোথেরাপি প্রয়োজন। তবে অনেক সময় ওষুধ সেবনেরও প্রয়োজন হতে পারে। রোগ ওস্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা ভালো, কিন্তু তা যেন মানসিক সমস্যার পর্যায়েচলে না যায়, সেদিকে লক্ষ রাখা উচিত। l
সূত্র -প্রথম আলো

