এক গবেষণায় জানা যায়, অধিকাংশ রোগী চিকিত্সকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ সেবন করেন না। কেন এ গাফিলতি, তার কিছু কারণ খুঁজে পেয়েছে মায়ো ক্লিনিক অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, ওষুধ না খাওয়ার অন্যতম কারণ মনস্তাত্ত্বিক। রোগী ভাবেন, রোগশোক-অসুস্থতা নিজেই একটি চিন্তার কারণ, যাকে বারবার মনে করিয়ে দেয় ওষুধ গ্রহণ।
১. ভুলে যাওয়া। সঠিক সময়ে ওষুধ খেতে ভুলে যান না, এমন মানুষ খুব কম রয়েছেন।
২. ভুল বোঝা। যদি কোনো প্রেসক্রিপশনে একাধিক ওষুধের নাম থাকে এবং রোগটি জটিল হয়, তবে কনফিউশন দেখা দিতে পারে।
৩. ভালো লাগা। হ্যাঁ, নিয়ম করে ওষুধ না খাওয়ার এটাও অন্যতম একটা কারণ। সুস্থ হয়ে গেছি, কী দরকার ওষুধ খাওয়ার— এমন মনে করেন অনেক রোগী।
৪. ভয়। ওষুধের প্রতি ভয়ভীতি অনেকেরই আছে। এ কারণে ওষুধ গ্রহণে বিরত থাকেন অনেকে। ওষুধের দাম নিয়েও রয়েছে দুশ্চিন্তা।
৫. চিকিৎসার সময়সীমা। রোগ দীর্ঘ হলে অনেকেই ওষুধে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন।
৬. বয়স। শিশুরা ট্যাবলেট খেতে চায় না আবার তাদের তরল ওষুধ হতে হবে সুস্বাদু। আর বৃদ্ধরা ওষুধ খেতে বিতৃষ্ণাবোধ করেন। তাদের অনিচ্ছা প্রবল। দিনে একবার-দুবার খেলেই চলে, তারা এমন মনে করেন।
৭. অস্বীকার করা। রোগকে স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠাবোধ করি। এমনিতেই সেরে যাবে, আমাদের মধ্যে এমন মনোভাব কাজ করে।
৮. নির্ভর হয়ে যাওয়া। ব্রাইটান বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ কেয়ারের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক রব হোব বলেছেন, ওষুধ খেতে অনিচ্ছুক অনেক রোগী। তারা মনে করেন, এতে ওষুধের ওপর তারা নির্ভর হয়ে পড়তে পারেন।
৯. প্রথমবার ওষুধ খাওয়ার পর অস্বস্তি হলে কিংবা খারাপ লাগলে ওষুধ গ্রহণ করেন না অনেকেই। এর বিপরীত স্বভাবের মানুষও রয়েছেন। ওষুধ খাওয়ার পর লক্ষণ তেমন কষ্টদায়ক না হলে অনেকে উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন।
১০. পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝি। যে চিকিত্সক রোগীকে একটু সময় দেন, অসুখ, চিকিৎসা, ওষুধ ইত্যাদি বুঝিয়ে বলেন, রোগীরা তাদের পছন্দ করেন। তাদের দেয়া উপদেশ ও প্রেসক্রিপশন মেনে চলেন।

