জন্মের থেকে ৬ মাস পর্যন্ত শিশুরা মায়ের দুধ অথবা গুঁড়া দুধের উপর নির্ভরশীল থাকে। ৬ মাসের পর থেকে শিশুদের দুধের পাশাপাশি সঠিক পুষ্টির জন্য অন্যান্য খাবারও প্রদান করতে হবে। নিম্নে
শিশুকে শক্ত খাবার খাওয়ানোর জন্য কিছু টিপস উল্লেখ করা হল -
-শিশুকে মধু খাওয়াবেন না। মধু তে “Clostridium botulinum” নামক ব্যক্টেরিয়া থাকতে পারে। শিশুর অন্ত্র এই ব্যক্টেরিয়ার বৃদ্ধি প্রতিহত করতে পারে না। তাই মধু খাওয়ার ফলে অনেক সময় অনেক শিশুর শরীরে বিষক্রিয়া হতে পারে।
-পিনাট বাটারও শিশুর জন্য কোন ভাল খাবার নয়। পিনাট বাটা শিশুর গিলতে কষ্ট হতে পারে।
-পিনাট বাটারের সাথে সাথে আরও কিছু স্ন্যাক্স জাতীয় খাবার আছে যা শিশুর খাদ্য তালিকায় পরিহার করা উচিত। যেমন – চিজ ক্র্যাকার, মার্সমেলো এবং জেলি ক্যান্ডি।
-শিশুকে যেই খাবারই খাওয়ান না কেন খেয়াল রাখুন যেন খাবারের দানা একটি ছোলার দানা থেকে বড় না হয়। আকারে বড় হলে খাবার কেটে ছোট ছোট পিস করে খাওয়াতে হবে।
-শিশুর জন্য সেরিয়াল খুবই উত্তম খাবার। এতে খুব অল্প পরিমাণে চিনি থাকে। শিশু খুব সহজেই সেরিয়াল গিলতে পারে।
-শিশুকে রুটি অথবা পাউরুটি ও খাওয়াতে পারেন। কিন্তু সেক্ষেত্রে অবশ্যই রুটিকে কেটে ছোট ছোট পিস করে খাওয়াতে হবে। তবে রুটি বা পাউরুটি বানানোর সাথে সাথে খাওয়ানো উচিৎ নয়। এতে শিশুর মুখের ভেতরে উপরের তালুতে রুটি আটকে যেতে পারে।
-শিশুকে যে ফলই খাওয়ান না কেন ফল যেন অবশ্যই পাকা এবং ছোট ছোট পিস করে খাওয়ান হয়। কলা, নাশপাতি বা বিচি ছাড়ানো তরমুজ শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারি।
-সবজি খাওয়ানোর আগে সব্জিকে অবশ্যই ভাল করে রান্না করে নরম করে নিতে হবে। শিশুর জন্য সবজি রান্নার সময় সবজিকে ছোট ছোট টুকরো করে কাটুন। এতে শিশুকে খাওয়ানোর সময় সবজিকে সহজেই হাত দিয়ে চটকে নরম করে খাওয়ানো যাবে।
-সব্জির মত একই পদ্ধতিতে মাংস এবং ডিমখাওয়ানো যাবে।
কিছু সতর্কতা
-শিশুর খাবার রাঁধার আগে এবং শিশুকে খাওয়ানোর আগে অবশ্যই হাত সাবান পানি দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।
-পচে যেতে পারে এমন খাবার ফ্রিজে ২ ঘন্টার বেশি রাখা উচিত নয়।
-বাইরে গেলে শিশুর খাবার এবং পানি তাপ নিরোধক অথবা ইন্সুলেটেড কন্টেইনারে করে নিয়ে যান।
-শিশুর খাবার ব্লেন্ড করার পূর্বে অবশ্যই ব্লেন্ডার বা ফুড প্রসেসর পরিষ্কার করে নিতে হবে।

