home top banner

Health Tip

ওতো কোনো কথাই শোনে না
22 August,13
  Viewed#:   169

সাকিবের বয়স ১২। নামী একটি স্কুলে সপ্তম শ্রেণীতে পড়ে। বছর দুয়েক ধরে বাসায় থাকলে তার মেজাজ খানিকটা তিরিক্ষি হয়ে থাকে। বাবা-মায়ের যে কোনো কথাতেই সে ঝাঁজিয়ে ওঠে। তাঁদের প্রায় সব কথাতেই সে খারাপ প্রতিক্রিয়া দেখায়। মুখে মুখে তর্ক করে এবং কিছু করতে বলা হলে সেটির উল্টোটা করতে চায়। তাঁদের ধমকায় পর্যন্ত!  কখনো বা তাচ্ছিল্যপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করে। আবার কখনো তাঁদের দিকে তেড়ে যায়! বাবা-মা চরম দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলেন। এমন দুশ্চিন্তায় অনেকেই পড়তে পারেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় সাকিবের এই সমস্যাটিকে বলা হয় অপজিশনাল ডেফিয়েন্ট ডিজঅর্ডার, অর্থাৎ অবাধ্য আচরণ জনিত সমস্যা। এ সমস্যা শিশুর নয়-দশ বছর বয়সের দিক থেকে শুরু হতে পারে। এ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক গবেষণা উদ্ধৃত করে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক মো. ওয়াজিউল আলম চৌধুরী বলেন, বিশ্বে প্রায় ১০ শতাংশ শিশুর মধ্যে এ ধরনের আচরণের সমস্যা রয়েছে। ছেলে শিশুদের মধ্যে এ সমস্যা হওয়ার প্রবণতা কিছুটা বেশি। এদের মা-বাবাদের মূল অভিযোগ, সন্তান মোটেই কথা শোনে না। সময় মতো ব্যবস্থা না নিলে এ সমস্যায় আক্রান্ত শিশুর মধ্যে পরবর্তী সময়ে ব্যক্তিত্বের সমস্যা, আবেগজনিত গুরুতর মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। আর সে নেশায় আসক্ত হতে পারে।

যা দেখে বোঝা যায়
অভিভাবকের বেশির ভাগ অনুরোধ বা নির্দেশের বিরোধিতা করা, সেগুলো অমান্য করা, কারণে-অকারণে তর্ক করা।
ইচ্ছা করে এমন আচরণ করা যাতে অন্যরা, বিশেষত বাবা-মা বিরক্ত হন।
তুচ্ছ কারণে রেগে যাওয়া এবং অন্যের প্রতি নিষ্ঠুরতা দেখানো।
নিজের অপকর্মের জন্য অপরকে দায়ী করা। প্রতিশোধ নেওয়া বা নেওয়ার চেষ্টা করা। অল্পতেই বিরক্ত হওয়া।
অশালীন ভাষার ব্যবহার বা কদর্য অঙ্গভঙ্গি করে বাবা-মা ও অন্যদের অগ্রাহ্য বা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা। সহজেই হতাশা গ্রস্ত হওয়া।

এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক মো. ওয়াজিউল আলম চৌধুরী বলেন, ‘কমপক্ষে ছয় মাস ধরে এ ধরনের আচরণ তার মধ্যে থাকলেই তবে একে অবাধ্য আচরণ জনিত সমস্যা বলা যাবে এবং এদের মধ্যে মাদকাসক্তি, বিষণ্নতা ও অতিচঞ্চলতা থাকতে পারে।’

কেন হয়
কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ নেই। তবে যে সব বিষয় এই আচরণগত সমস্যা হওয়ার জন্য দায়ী বলে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা মনে করেন, সেগুলো হচ্ছে:
শিশুর বেড়ে ওঠার সময় অতি কঠোর বা অতি শিথিল বা অসংগতি পূর্ণ পারিবারিক অনুশাসন।
পরিবারের মধ্যে নিয়ম শৃঙ্খলার অভাব, অসংগঠিত বা ভেঙে যাওয়া পরিবার।
বাবা-মা বা পরিবারের কোনো সদস্যের মধ্যে আচরণ জনিত সমস্যা বা ব্যক্তিত্বের সমস্যা থাকা — যেমন শিশুর সামনেই যদি তার বাবা প্রায়ই অপরের সঙ্গে তর্ক ও বিবাদে জড়িয়ে পড়েন।
পরিবারের যে কোনো সদস্যের নেশা গ্রস্ত হওয়া।
শিশুকে শারীরিক ভাবে পীড়ন, মৌখিক ভাবে তিরস্কার ও তাচ্ছিল্য করা, উত্ত্যক্ত করা।

প্রতিকার যেভাবে
শিশুর মধ্যে এই সমস্যা দেখা দিলে ধৈর্য ধরে তার আচরণ পরিবর্তন করার চেষ্টা করতে হবে, রাগ করে তাকে শারীরিক-মানসিক নির্যাতন করা যাবে না, আবার ‘যা ইচ্ছা করুক’ বলে হাল ছেড়ে দেওয়া যাবে না। অধ্যাপক মো. ওয়াজিউল আলম চৌধুরীর মতে, বাবা-মায়ের আচরণের পরিবর্তন ছাড়া শিশুর অবাধ্য আচরণের পরিবর্তন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, কেবল পেশাগত উন্নতি আর বৈভবের পেছনে ছুটলেই চলবে না বরং সন্তানকে দিতে হবে গুণগত সময়। পাশাপাশি এ বিষয়ে বাবা-মায়েদের সচেতন হওয়া আর সন্তানের আচরণকে লুকিয়ে না রেখে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় নিয়ে আসার ওপর ও জোর দেন তিনি।

কথা না শোনা’ সন্তান ও তার পরিবারের জন্য পরামর্শ 
অভিভাবকদের যেসব আচরণের প্রতিক্রিয়ায় শিশুর মধ্যে অবাধ্যতা দেখা যায়, সেগুলো পরিবর্তন করার চেষ্টা। শিশুর আচরণ পরিশীলিত করার জন্য বিহেভিয়ার থেরাপির মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত আচরণকে উৎসাহিত করা। শিশুর ভালো কাজের প্রশংসা করা, পুরস্কৃত করা আর অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের জন্য পুরস্কার প্রত্যাহার করা। শিশুর জন্য একটি রুটিন তৈরি করা পারিবারিক সম্প্রীতি বজায় রাখা, পরিবারের সবার আচরণ ও চিন্তার সমন্বয় ঘটানো। শিশুকে কোনো মানসিক চাপের মুখে ঠেলে না দেওয়া। অতিচঞ্চলতা, বিষণ্নতা বাআবেগ জনিত কোনো সমস্যা থাকলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ গ্রহণ। লেখক: মনোরোগচিকিৎসক

 

সূত্র- প্রথমআলো

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: ডেঙ্গু হলেই রক্ত দেওয়ার ধারণা ঠিক নয়
Previous Health Tips: বসকে চাই বন্ধুর মতো

More in Health Tip

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... See details

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... See details

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... See details

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... See details

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... See details

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')