সুস্থ মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও অ্যালার্জির কারণে অস্বাভাবিক আচরণ করতে পারে। আপনার শরীরেও
মাঝে মাঝে ক্ষতি করেনা এমন জিনিসে প্রতিক্রিয়া হতে পারে যেমন - রেণু, পশুর মরা কোষ, খুশকি অথবা কোন খাবার।
যেকোনো রকমের জিনিস থেকেই অ্যালার্জির সৃষ্টি হতে পারে এবং এই অ্যালার্জির মাত্রা সামান্য থেকে জীবন নিয়ে
আশঙ্কা করার মত ভয়াবহও হতে পারে।
পরাগরেণু
গাছ, ঘাস এবং আগাছা থেকে ঝরে পড়া পরাগরেণুসাধারণত মৌসুমি অ্যালার্জির জন্ম দেয়। এই ধরণের অ্যালার্জির উপসর্গ
হল- হাঁচি দেয়া, সর্দি লাগা, নাকে রক্ত জমে যাওয়া, চুলকানো অথবা চোখ দিয়ে পানি পড়া। এই ধরণের অ্যালার্জির
চিকিৎসায় উপরোক্ত উপসর্গ অনুযায়ী ওষুধ দেয়া হয়। তাছাড়া কিছুসতর্কতা অবলম্বন করলেও এই ধরণের অ্যালার্জি
থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। বাতাস হয় এমন দিনগুলিতে বাসায় থাকার চেষ্টা করা, দরজা জানালা বন্ধ করে রাখা, এয়ার
কন্ডিশন চালানো ইত্যাদি।
অ্যানিমেল ড্যান্ডার
পশুর তৈল গ্রন্থি থেকে একরকম প্রোটিন নিঃসৃত হয়। এই প্রোটিন মরা কোষ আকারে শরীর থেকে ঝরে পরতে পারে অথবা
পশুর লালায়ও উপস্থিত থাকতে পারে। এগুলিকে বলা হয় 'অ্যানিমেল ড্যান্ডার'। এই ধরনের অ্যালার্জি স্থায়ী হতে দুই বছর বা
তারও অধিক সময় লাগতে পারে এবং অ্যালার্জির উপসর্গ যেতে মাসেরও বেশি সময় লাগতে পারে। নিজের শোবার ঘরে পোশা
প্রাণীকে আনবেন না। কার্পেট ব্যবহার করবেন না। পোশা প্রাণীকে সবসময় পরিষ্কার রাখুন। নিয়মিত ভ্যাকুয়াম ক্লিনার
দিয়ে ঘর পরিষ্কার করলেও উপকার পাওয়া যেতে পারে।
ডাস্ট মাইট
ডাস্ট মাইট হল আণুবীক্ষণিক এক ধরণের পরজীবী। এগুলি মানুষ এবং পশুর মরা কোষ, পরাগ রেণু, ব্যক্টেরিয়া ইত্যাদি খেয়ে
বেছে থাকে। এই পরজীবী থেকে রক্ষা পেতে কার্পেট, বালিশ, ম্যাট্রেস ইত্যাদি কাভার দিয়ে ঢেকে রাখা উচিৎ। মাঝে মাঝে চাদর,
ম্যাট্রেসের কাভার, পর্দা এগুলি গরম পানিতে ধোয়া উচিৎ। ঘরের সোফা, পিলোর কাভার, পর্দা, কার্পেট ইত্যাদি সবসময়
ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে পরিষ্কার করা উচিৎ।
পোকার কামড়
পোকার কামড়ের অ্যালার্জি ভয়াবহ হতে পারে। মানুষের মৃত্যুহওয়ারও সম্ভাবনা থাকে। এই ধরণের অ্যালার্জির উপসর্গ
হল - চামড়া ফুলে যাওয়া, লাল হয়ে যাওয়া। এই উপসর্গ গুলি কয়েকদিন থেকে সপ্তাহখানেক স্থায়ী হতে পারে। অনেক সময়
পোকার কামড়ে বমি বমি ভাব হওয়া, সামান্য জ্বরও আসতে পারে। তবে মাঝে মাঝে পোকার কামড় ভয়াবহ হতে পারে এবং
এর ফলাফল মারাত্মক আকার ধারন করতে পারে যেমন - শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, পুরো মুখ, গলা ফুলে যাওয়া, পালস বেড়ে
যাওয়া, গায়ে চুলকানো র্যাশ হওয়া, মাথা ঘুরান, রক্তচাপ দ্রুত কমে যাওয়া। যদি আপনি মারাত্মকভাবে অ্যালার্জিক হন
তাহলে আপনার দেরি না করে এপিনেফ্রিন নেয়া উচিৎ।
মোল্ড
মোল্ড হল একধরণের আণুবীক্ষণিক ফাঙ্গাল জীব - এগুলি অ্যালার্জির জন্ম দিতে পারে, মাঝে মাঝে মারাত্মক বিষাক্তও
হতে পারে। নিঃশ্বাসের সাথে মোল্ড শরীরে গেলে অনেকের অ্যালার্জি হতে পারে। মোল্ডের বৃদ্ধিতে আর্দ্রতা প্রয়োজন।
সাধারণত ভেজা জায়গায় যেমন - বাথরুমে এদের পাওয়া যায়। ভেজা স্যাঁতস্যাঁতে জায়গায় বেশিক্ষন না থাকা অথবা ভেজা
নোংরা বাথরুম পরিষ্কার না করে এই ধরণের অ্যালার্জি থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব ।
খাবার
দুশ, শেল ফিশ, ডিম এবং বাদাম হল অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী অন্যতম কয়েকটি খাবার। খাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই সাধারণত
অ্যালার্জির সৃষ্টি হয়। এই ধরণের অ্যালার্জির উপসর্গ গুলির মধ্যে থাকে - নিঃশ্বাস নেয়ার সমস্যা, বমি করা, ডায়রিয়া,
মুখের চারপাশ ফুলে যাওয়া, এবং মাঝে মাঝে এর থেকেও মারাত্মক আকার ধারন করতে পারে। যেই খাবারে অ্যালার্জি হয় সেই
সব খাবার যথাসম্ভব এড়িয়ে চলা উচিৎ। বিশেষ ক্ষেত্রে এপিনেফ্রিন ইঞ্জেকশান নেয়ার প্রয়োজন পরতে পারে।
ল্যাটেক্স -আঠা জাতীয় পদার্থ
অনেকেরই গ্লাভস, কনডম এবং নানা রকম মেডিক্যাল যন্ত্রপাতিতে ব্যবহৃত আঠা জাতীয় পদার্থ থেকে অ্যালার্জি হতে
পারে। এই অ্যালার্জির উপসর্গ হল - র্যাশ পড়া, চোখ চুলকানো, সর্দি হওয়া, সাঁসাঁ করে নিঃশ্বাস ফেলা এবং ত্বক
বা নাক চুলকানো। অ্যালার্জির ভয়াবহতা সামান্য লাল হওয়া থেকে অ্যানাফাইলাক্সিসের মত ভয়াবহ আকার ধারন করতে
পারে। অ্যানাফাইলাক্সিস হলে শ্বাস নিতে সমস্যা হতে পারে। এই ধরণের পদার্থে অ্যালার্জি থাকলে সবসময় হাতের কাছে
এপিনেফ্রিন কিট রাখুন।
ওষুধ
মাঝে মাঝে ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসেবে অ্যালার্জি হতে পারে। যেমন - পেনিসিলিন, অ্যাসপিরিন। এই ধরণের অ্যালার্জি
সামান্য থেকে জীবনের আশঙ্কা করার মত ভয়াবহ হতে পারে। চোখ চুলকানো, মুখ এবং গলা ফুলে যাওয়া, রক্ত জমে যাওয়া
ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিতে পারে। ডাক্তাররা স্বাভাবিকভাবে এই ধরণের অ্যালার্জির চিকিৎসায় অ্যান্টিহিস্টামিন বা
স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ দিতে পারে। অ্যালার্জি মারাত্মক আকার ধারন করলে এপিনেফ্রিন নেয়ার প্রয়োজন পড়তে পারে।
সুগন্ধি
বিভিন্ন প্রোডাক্টের সাথে যুক্ত সুগন্ধি থেকেও অনেকের অ্যালার্জি হতে পারে। যেমন - পারফিউম, সুগন্ধ যুক্ত
মোমবাতি , কসমেটিক ইত্যাদি। বেশির ভাগ মানুষের ক্ষেত্রে ঐ গন্ধ থেকে সরে আসলে অ্যালার্জিও চলে যায়। কিন্তুবার
বার একই সুগন্ধের কাছে গেলে অ্যালার্জি বেশি সময় স্থায়ী হতে পারে।
তেলাপোকা
তেলাপোকার শরীরের প্রোটিন তাদের বর্জ্যের সাথে বের হয়ে আসে। এই উপাদান মানুষের শরীরে অ্যালার্জির সৃষ্টি করতে
পারে। তেলাপোকা থেকে কখনো সম্পূর্ণ নিস্তার পাওয়া সম্ভব নয়। তাই নানা রকম পেস্টিসাইড ব্যবহার করে এদের
বংশ বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রনে রাখতে হবে। তাছাড়া নিয়মিত ঘর, কিচেন, বুক শেলফ ইত্যাদি জায়গা ঝেড়ে মুছে পরিষ্কার রাখতে
হবে।
Source: WebMD
Courtesy: HealthPrior21

