টিকাদান বা আর যাই হোক ইনজেকশন দেবে শুনলে শিশু ভয়ে কাতর হয়ে পড়ে কিংবা রক্ত নিয়ে পরীক্ষা করানোর
কথা জানতে পারলে মুহূর্তেই মলিন বিধূর হয়। এসব অবস্থায় বাচ্চার ব্যথা লাঘবে কিংবা দুশ্চিন্তার পারদ নামিয়ে
আনতে কিছু ব্যবস্থা অবলম্বন করা যায়।
* শিশুর রাগ, হতাশা, ভয় হৃদয় দিয়ে অনুধাবন করতে হবে। ভয় নিয়ে সন্তানের সঙ্গে খোলা মনে কথা বলুন।
* শিশুকে টিকাদান, ইনজেকশন বা রক্ত পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা বুঝিয়ে বলুন। এতে যে তার কত মঙ্গল হবে
তা সম্যক জানিয়ে দিন। আর এসব করতে হবে থাকে যে স্কুলে কামাই করতে হবে না বা খেলাধুলা হতে বঞ্চিত করা
হবে না তাও বলে রাখুন।
* মনে রাখতে হবে শিশুর মঙ্গলের জন্য এ ইনজেকশন বা টেস্ট করাতেই হবে। এর কোনো দ্বিতীয় পন্থা নেই। এ
জন্য শিশু বিমর্ষ হয়ে পড়লে বা অসহযোগিতা করলেই এটি চালিয়ে যেতে হবে। তবে প্রতিবার ইনজেকশন দেওয়া বা
রক্ত টেস্টের সময় যদি যুদ্ধক্ষেত্র তৈরি হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে শিশুর ভয় লাঘবে চিকি সক কিংবা মনোরোগ
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ চাইতে পারেন।
ইনজেকশন বা রক্ত পরীক্ষায় করণীয় :
* পূর্ব প্রস্তুতি শিশু দেখার আগেই সুচ-সিরিঞ্জ ওষুধ খুব কম সময় নিয়ে সব প্রস্তুত করে রাখা।
* দ্রুত শেষ করা। অথচ শান্ত-নিখুঁতভাবে ইনজেকশন প্রয়োগ।
* একই স্থানে পর পর ইনজেকশন প্রয়োগ না করা।
* শিশুকে বুকের দুধ পানকালে ইনজেকশন দেওয়া হলে তা অনেক অস্বস্তি লাঘব হবে।
* ঘরের তাপমাত্রায় ইনসুলিন দিন এবং ইনজেকশন স্থানে অ্যালকোহল দ্রবণে মুছে শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত
অপেক্ষা করুন।
* ইনজেকশন প্রয়োগের আগে ওই স্তান পাতলা কাপড়ে পেঁচানো বরফ লাগলে তা কিছুটা ব্যাথা নিরোধক হয়
* শিশুর মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে নিতে ইনজেকশন দেওয়ার সময় গান ধরুন। মুখ-বাঁশি বাজান।
* শিশুর হাতে তুলে দিন নতুন খেলনা বা তার পছন্দনীয় কোন পুতুল।
* ইনজেকশন দেওয়ার পর শিশুকে কোনো স্টিকার বা খেলনা কিনে দিয়ে পুরস্কার করুন তবে কোনো খাবার বা
পানীয় পায়না মেটাবেন না।
* শিশু যখনই সহযোগিতা করবে তখনই মুক্ত কন্ঠে তার প্রশংসা করুন।
* ইনকেজশন প্রয়োগের পর শিশুর সঙ্গে খেলা করুন বা মজার ছবির বইয়ের পাতা ওল্টান।
* অন্য শিশু অথবা অভিভাবকরা ইনজেকশন বা টেস্ট নিয়ে কথা বললে তা তাকেও শুনতে দিন। তাহলে সে সাহস পাবে।
সূত্র - যায়যায়দিন

