home top banner

Health Tip

শ্বাসকষ্ট বা হাঁপনি চিকিৎসায় ইনহেলার
16 July,13
  Viewed#:   258

বাংলাদেশেরলাখো মানুষের কাছে হাঁপানি বা এ্যাজমা একটি মারাত্মক ও যন্ত্রণাদায়কব্যাধি। এদেশের প্রায় ৬০-৭০ লাখ লোক এ রোগে আক্রান্ত। অনেকেই ধারণা করেথাকেন যে, হাঁপানী বা এ্যাজমার কোন নির্দিষ্ট চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই, যে সকলওষুধ ব্যবহার করা হয় তার দ্বারা হাঁপানীর উপসর্গের প্রকোপ বৃদ্ধিতে বাঁধাদেয়া যায় মাত্র, ঔষধ সেবন বন্ধা করে দিলেই সে উপসর্গ আবার দেখা দেয়।বর্তমানে এ ধারণাটি ভুল, কারণ বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে বর্তমানে শ্বাসকষ্টবা হাঁপানীর অনেক অত্যাধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে। যদিও এ রোগ সম্পূর্ণনিরাময় সম্ভব নয়, তবে যথোপযুক্ত চিকিৎসার মাধ্যমে হাঁপানী নিয়ন্ত্রণে রেখেস্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব। হাঁপানী রোগীদের সাধারণত দীর্ঘমেয়াদীব্যবস্থার আওতায় থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হয়।

আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় এ্যাজমা রোগীদেরকে মুখে খাবার ঔষুধের চেয়েইনহেলার বেশি ব্যবহার করতে দেয়া হয়। কারণ এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই, কমপরিমাণ ঔষুধ লাগে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এটা সঠিক নিয়মে ব্যবহারকরলে খুব দ্রুত শ্বাসকষ্টের পরিমাণ কমে যায়। ইনহেলার এ্যাজমা রোগীর এমনএকটি চিকিৎসা পদ্ধতি যা কিনা রোগী শ্বাস প্রশ্বাসের মাধ্যমে টেনে নেয় এবংঔষুধ শ্বাসনালীতে পেঁৗছায়।
হাঁপানী রোগীদের অনেকেই মনে করেন, ইনহেলার হাঁপানীর সর্বশেষ চিকিৎসা।ইনহেলার একবার ব্যবহার করলে পরবর্তীতে শ্বাসকষ্টের পরিমাণ কমানোর জন্য আরঅন্য কোন ঔষুধ কাজে আসবে না। তাদের জেনে রাখা ভাল, হাঁপানী বা শ্বাসকষ্টেরপ্রথম চিকিৎসা হচ্ছে ইনহেলার। ইনহেলার শ্বাসকষ্ট লাঘবে খুব দ্রুত কাজ করে, যেখানে সেবনযোগ্য ট্যাবলেট বা বড়ি খেলে ২০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা সময় লাগে।

একটি উদাহরণের সাহায্য তা সহজে বুঝা যায় :

৪ হাজার মাইক্রোগ্রাম ঔষুধ থাকে একটি ভেনটোলিন ট্যাবলেট। কোন হাঁপানী বাশ্বাসকষ্টেরা রোগীকে যদি এটি মুখে সেবন করানো হয়, তবে এর প্রায় ৩ হাজার ৯৮০মাইক্রোগ্রাম ঔষুধ রক্তের সাথে মিশে সমস্ত দেহে চলে যায়। আর প্রায় ১০ থেকে২০ মাইক্রোগ্রাম ঔষুধ রক্তের মাধ্যমে শ্বাসনালীতে পেঁৗছে এবং শ্বাসকষ্টলাঘব করে।

আর্ ইে ভেনটোলিন যদি ইনহেলারের মাধ্যমে নেয়া হয় তবে তা সরাসরি শ্বাসনালীতেপেঁৗছায় এবং খুব তাহাতাড়ি শ্বাসকষ্টের উপশম করে। তাই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াদেখা দেবার কোন সুযোগ থাকে না। তবে একটা কথা অবশ্যই জানা দরকার, ইনহেলারব্যবহারে যথোপযুক্ত ফল পাওয়া যাবে যদি এর ব্যবহার বিধি সঠিকভাবে জেনে নেয়াযায়। ছোট কোন ক্যানিস্টার বা কৌটায় সাধারণত ঔষধ থাকে। সব সময় ইনহেলারব্যবহারের ফলে তা ঝাঁকিয়ে নিলে ভাল। শ্বাস নেয়া এবং ক্যানেস্টারে চাপ দেয়াআগে পরে হলে ইনহেলার ব্যবহারের কোন ফল পাওয় যাবে না। ঠিক শ্বাস নিতে আরম্ভকরার সময় ক্যানেস্টার চাপ দিতে হবে। যাতে ঔষধ সরাসরি শ্বাসনালীতে পেঁৗছায়।মুখের দেড় থেকে দুই ইঞ্চি সামনে ইনহেলার মাইথপিস রেখে শ্বাস গ্রহণ করলেঔষুধের অধিকাংশ পরিমাণ শ্বাসনালীতে যায়। শ্বাসের সঙ্গে ঔষধ টেনে নেবার পর১০-২০ সেকেন্ডের মত শ্বাস বন্ধ করে রাখতে হবে। শ্বাসকষ্ট বা এ্যাজমারোগীদের খুব তাড়াতাড়ি শ্বাসকষ্টের পরিমাণ লাঘবের জন্য সাধারণত সালবিউটামলউনহেলার সিরাপ, ট্যাবলেট দেয়া হয়্ বেং এর কার্যকারিতা থাকে প্রায় ৪ ঘণ্টারমতো। ইনহেলার ১ বার ব্যবহারের পর ৪ ঘণ্টার মধ্যে আবার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়সাথে অন্য ঔষধ দিতে হবে। যে ঔষুধই ব্যবহার করা হোক না কেন অবশ্যই তাচিকিৎসকের উপদেশ বা পরামর্শ অনুযায়ী করতে হবে।

হাঁপানী রোগীদের দীর্ঘ সময় সুস্থ্য থাকার একটি অন্যতম চিকিৎসা পদ্ধতি হচ্ছেইনহেলার। সালবিউটামল ছাড়াও বর্তমানে শ্বাসকষ্টের রোগীদের ব্যহার উপযোগীঔষুধসমূহ ইনহেলার হিসাবে পাওয়া যাচ্ছে। ইনহেলার ব্যাপারে ভয় পাবার কিছুনেই। শিশু থেকে বৃদ্ধ ব্যক্তি ও ইনহেলার ব্যবহার করতে পারে। সকল ইনহেলারএকই ধরনের কাজ করে না। তাই বিশেষজ্ঞগণ রোগীর হাঁপানীর কারণ ও ধরণ বুঝে ঔষুধনিয়ে থাকেন।

সূত্র - যায়যায়দিন

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: এখন থেকেই রূপ-রুটিন
Previous Health Tips: স্তনে ব্যথা বা ব্রেস্ট পেইন

More in Health Tip

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... See details

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... See details

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... See details

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... See details

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... See details

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')