বাংলাদেশেরলাখো মানুষের কাছে হাঁপানি বা এ্যাজমা একটি মারাত্মক ও যন্ত্রণাদায়কব্যাধি। এদেশের প্রায় ৬০-৭০ লাখ লোক এ রোগে আক্রান্ত। অনেকেই ধারণা করেথাকেন যে, হাঁপানী বা এ্যাজমার কোন নির্দিষ্ট
চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই, যে সকলওষুধ ব্যবহার করা হয় তার দ্বারা হাঁপানীর উপসর্গের প্রকোপ বৃদ্ধিতে বাঁধাদেয়া যায় মাত্র, ঔষধ সেবন বন্ধা করে দিলেই সে উপসর্গ আবার দেখা দেয়।বর্তমানে এ ধারণাটি ভুল, কারণ বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে বর্তমানে শ্বাসকষ্টবা হাঁপানীর অনেক অত্যাধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে। যদিও এ রোগ সম্পূর্ণনিরাময় সম্ভব নয়, তবে যথোপযুক্ত চিকিৎসার মাধ্যমে হাঁপানী নিয়ন্ত্রণে রেখেস্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব। হাঁপানী রোগীদের সাধারণত দীর্ঘমেয়াদীব্যবস্থার আওতায় থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হয়।
৪ হাজার মাইক্রোগ্রাম ঔষুধ থাকে একটি ভেনটোলিন ট্যাবলেট। কোন হাঁপানী বাশ্বাসকষ্টেরা রোগীকে যদি এটি মুখে সেবন করানো হয়, তবে এর প্রায় ৩ হাজার ৯৮০মাইক্রোগ্রাম ঔষুধ রক্তের সাথে মিশে সমস্ত দেহে চলে যায়। আর প্রায় ১০ থেকে২০ মাইক্রোগ্রাম ঔষুধ রক্তের মাধ্যমে শ্বাসনালীতে পেঁৗছে এবং শ্বাসকষ্টলাঘব করে।
আর্ ইে ভেনটোলিন যদি ইনহেলারের মাধ্যমে নেয়া হয় তবে তা সরাসরি শ্বাসনালীতেপেঁৗছায় এবং খুব তাহাতাড়ি শ্বাসকষ্টের উপশম করে। তাই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াদেখা দেবার কোন সুযোগ থাকে না। তবে একটা কথা অবশ্যই জানা দরকার, ইনহেলারব্যবহারে যথোপযুক্ত ফল পাওয়া যাবে যদি এর ব্যবহার বিধি সঠিকভাবে জেনে নেয়াযায়। ছোট কোন ক্যানিস্টার বা কৌটায় সাধারণত ঔষধ থাকে। সব সময় ইনহেলারব্যবহারের ফলে তা ঝাঁকিয়ে নিলে ভাল। শ্বাস নেয়া এবং ক্যানেস্টারে চাপ দেয়াআগে পরে হলে ইনহেলার ব্যবহারের কোন ফল পাওয় যাবে না। ঠিক শ্বাস নিতে আরম্ভকরার সময় ক্যানেস্টার চাপ দিতে হবে। যাতে ঔষধ সরাসরি শ্বাসনালীতে পেঁৗছায়।মুখের দেড় থেকে দুই ইঞ্চি সামনে ইনহেলার মাইথপিস রেখে শ্বাস গ্রহণ করলেঔষুধের অধিকাংশ পরিমাণ শ্বাসনালীতে যায়। শ্বাসের সঙ্গে ঔষধ টেনে নেবার পর১০-২০ সেকেন্ডের মত শ্বাস বন্ধ করে রাখতে হবে। শ্বাসকষ্ট বা এ্যাজমারোগীদের খুব তাড়াতাড়ি শ্বাসকষ্টের পরিমাণ লাঘবের জন্য সাধারণত সালবিউটামলউনহেলার সিরাপ, ট্যাবলেট দেয়া হয়্ বেং এর কার্যকারিতা থাকে প্রায় ৪ ঘণ্টারমতো। ইনহেলার ১ বার ব্যবহারের পর ৪ ঘণ্টার মধ্যে আবার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়সাথে অন্য ঔষধ দিতে হবে। যে ঔষুধই ব্যবহার করা হোক না কেন অবশ্যই তাচিকিৎসকের উপদেশ বা পরামর্শ অনুযায়ী করতে হবে।
হাঁপানী রোগীদের দীর্ঘ সময় সুস্থ্য থাকার একটি অন্যতম চিকিৎসা পদ্ধতি হচ্ছেইনহেলার। সালবিউটামল ছাড়াও বর্তমানে শ্বাসকষ্টের রোগীদের ব্যহার উপযোগীঔষুধসমূহ ইনহেলার হিসাবে পাওয়া যাচ্ছে। ইনহেলার ব্যাপারে ভয় পাবার কিছুনেই। শিশু থেকে বৃদ্ধ ব্যক্তি ও ইনহেলার ব্যবহার করতে পারে। সকল ইনহেলারএকই ধরনের কাজ করে না। তাই বিশেষজ্ঞগণ রোগীর হাঁপানীর কারণ ও ধরণ বুঝে ঔষুধনিয়ে থাকেন।

