লক্ষণ ও উপসর্গ
১. চেহারায় পরিবর্তন আসা এবং/কিংবা আচরণে পরিবর্তন আসা যেটা সম্পর্ক এবং কার্যক্ষমতার প্রতি হুমকি স্বরূপ।
২. অল্পতেই বিরক্তি কিংবা হঠাৎ করে আচরণ এবং মেজাজের পরিবর্তন|
৩. অস্িহরতা, কখনও কখনও চরম অলসতা বা নিস্ক্রিয়তায় কাল যাপন।
৪. অস্বাভাবিকভাবে অনুপস্িহতি|
৫. অস্বাভাবিকভাবে টাকা পয়সার সমস্যা হওয়া|
৬. হঠাৎ করে কোন কিছু বিস্মৃত হওয়া বা স্মৃতি বিভ্রাট|
৭. নেশাদ্রব্যের প্রতি তীব্র তৃষäা, নেশাদ্রব্যের আসক্তি কাটিয়ে উঠতে অপারগতা, নেশা দ্রব্য ব্যবহারের বিষয়ে মিথ্যাচার, নেশাদ্রব্য অর্জন এবং ব্যবহারের চিন্তায় মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত থাকা।
কী করা উচিত
১. যদি আপনার মনে হয় যে আপনি নেশাদ্রব্যের আসক্তিতে আক্রান্ত এবং ছেড়ে দেয়ার চেষ্টা করেও সফল হন নি, বা পাড়ছেন না, সেক্ষেত্রে অনতিবিলম্বে কোন নেশার আসক্তি নিরাময় প্রকল্প কিংবা কোন বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হন। মনে রাখবেন নেশা থেকে নিজে নিজেই মুক্ত হওয়া অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ব্যাপার।
২. যদি আপনি নিজের বা আপনার পরিবার বা বন্ধু-বান্ধবদের কারোর মধ্যে উপরে উল্লেখিত লক্ষণগুলোর কোন একটি দেখতে পান (বিশেষত যদি কোন উঠতি বাচ্চা কিংবা কিশোর কিশোরিদের মধ্যে এই সমস্যা দেখেন)।
কখন ডাক্তার দেখাবেন
১. যদি আপনি গর্ভবতী হন এবং আপনার নেশা দ্রব্য সেবনের অভ্যাস থেকে থাকে।
২. যদি কারোর (বিশেষত কোন উঠতি বাচ্চা কিংবা কিশোর কিশোরি) মধ্যে নেশাদ্রব্য সেবনের লক্ষণগুলো প্রকাশিত হয়।
কীভাবে প্রতিরোধ করবেন
নেশাদ্রব্যের আসক্তি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে নিজের জীবন-যাপন পদ্ধতি এবং অভ্যাসে প্রচুর পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। নেশাদ্রব্যের আসক্তি কতোটা তীব্র তার উপর নির্ভর করে এই আসক্তি থেকে মুক্তি পাওয়া (নেশা করা ছেড়ে দেবার বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া) খুবই শক্ত এবং দুরুহ হয়ে উঠতে পারে, তারপরও, কিছু কিছু পদক্ষেপ আছে যেগুলো অনুসরণ করে আপনি নিজেকে নেশাদ্রব্যের গ্রাস থেকে রক্ষা করতে পারেন:
১. পরিবারের সদস্য, বন্ধু-বান্ধব এবং কলিগ বা সহযোগীদের সাহায্য গ্রহণ করুন।
২. বর্তমান নেশা থেকে বাঁচার জন্যে নিজেকে অন্য কোন নেশা যেমন জুয়া খেলা, ধুমপান কিংবা অতিভোজন ইত্যাদির দিকে ঠেলে না দেবার বিষয়ে যত্নশীল হোন।
৩. আপনার খাবার দাবার যেন স্বাস্হকর হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখুন এবং নিয়মিত শরীর চর্চার বিষয়ে যত্নশীল হোন। নিয়মিত শরীর চর্চার ফলে শরীর থেকে কিছু রাসায়নিক পদার্থ নির্গত হয় যেটা আপনাকে মানসিক ও দৈহিকভাবে ভালো বোধ দিতে সক্ষম।
৪. মনে রাখবেন, এক রাতেই নেশাদ্রব্যের আসক্তি থেকে মুক্ত হওয়া সম্ভব নয়। যদি নেশা করা ছেড়ে দেয়ার কারণে আপনার দেহে কোন অবাঞ্চিত সমস্যা তৈরি হয়, সেই অযুহাতে আবার নেশা করা শুরু করবেন না। ভালোভাবে মনে করুন এই অবাঞ্চিত সমস্যার মূল কারণ কি, এবং পরবর্তিতে সেই কারণ এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করুন।
৫. যেসব জায়গায় গিয়ে আপনি নেশাদ্রব্য সেবন করতেন কিংবা ক্রয় করতেন, সেসব জায়গায় যাতায়াত বন্ধ করুন। যারা নেশাদ্রব্য সেবন করে না তাদের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তোলার চেষ্টা করুন এবং যেসব বন্ধু বান্ধব নেশাদ্রব্য সেবন করে তাদের থেকে দূরে থাকুন।
সুত্রঃ- smile.com.bd

