কেস স্টাডি এক.
কলেজ পড়ুয়া এক ছাত্রী হোস্টেল থেকে ছুটিতে গ্রামে বাড়িতে বেড়াতে গেল...সেখানে কোন এক কারনে দাদীর সাথে খারাপ ব্যাবহার করে যা তার বাবা দেখে কষ্ট পায়...মেয়েকে জোড় করে যেন তার দাদীর কাছে ক্ষমা চেয়ে নেয়...অভিমানি মেয়ে তাৎক্ষনিক জবাব দেয় সে ক্ষমা চাইবেনা...ব্যাস অভিমানি বাবাও প্রতিউত্তর দেয়, "তুই তোর দাদীর কাছে ক্ষমা না চাইলে আমিও তোর সাথে কথা বলবোনা"...বাবা মেয়ের অভিমান চলতে থাকে...কেউ কারো সাথে কথা বলেনা...একসাথে খেতে বসে না...এক জন অন্যজনকে দেখলে পথ এড়িয়ে চলে...এক পর্যায়ে মেয়ে এই দূরত্ব সহ্য করতে না পেরে দাদীর কাছে ক্ষমা চায় এবং দাদীর মাধ্যেমে বাবাকে অনুরোধ করে যেন তার সাথে কথা বলে কিন্তু নিজে গিয়ে কথা বলেনা...বাবাও তার অবস্থানে অনড়, আমি কেন গিয়ে কথা বলবো, ও আসতে পারেনা...এই করে ছুটির দিনগুলো ফুরিয়ে যায় বাবা-মেয়ের আর কথা বলা হয়না...হোস্টেলে ফিরে একাকী অভিমানি মেয়ে বাবার সাথে কথা না বলার কষ্ট সহ্য করতে না পেরে ফ্যানের সাথে ওড়না বেঁধে নিজে ধরনী থেকে চির বিদায় নেয়...চলে যাবার আগে অভিমানি মেয়েটি যা লিখে যায় তাকে কেউ চোখের পানি ধরে রাখতে পারে না, "বাবা আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি"...ভাল করে খেয়াল করুন মেয়ে তার বাবাকে অনেক ভালবাসার পরেও কথা বলতে না পেরে আত্বহননের পথ বেছে নেয়...এখানে তার অভিমানটি ছিল মানসিক রোগ...
কেস স্টাডি দুই.
আমার পরিচিত এক ভদ্রমহিলা যাকে মামি ডাকতাম...তার স্বামী প্রবাসে থাকতো...তো কোন এক কারনে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনমালিন্য চলছে...খুব সম্ভ্যবত স্ত্রী পরকীয়া করে এমন সন্দেহ করে কোন কথা হয়তো বলেছে...সেই নিয়ে তর্ক-বিতর্ক চলেছে বেশ কিছুদিন...পরক্ষনে স্ত্রী জিদ ধরলো তুমি দেশে এসে দেখে যাও প্রকৃত ঘটনা কতটুকু সত্য...অভিমান করে স্ত্রী খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দেয়...প্রথম প্রথম স্বামী ব্যাপারটি বেশি গুরুত্ব দেয়না...কয়েক দিন স্ত্রীকে বুঝাতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়...বাধ্য হয়ে ইমার্জেন্সি ছুটিতে দেশে ফিরে আসে স্বামী...ততক্ষনে স্ত্রীর অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়...হাসপাতালে সপ্তাহ খানেক মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে নেয় স্ত্রী...এতে অভিমান ছিল স্বামী কেন অন্যর কথায় কান ভারি করে স্ত্রীর উপর সন্দেহ করলো...এই ধরনের অভিমানও এক ধরনের মানসিক রোগ...
কেস স্টাডি তিন.
ছেলেটির নাম রায়হান...বার-তের বছরের ছেলে...একদম কিশোর বয়স...এই বয়সেই তার অভিমান অত্যন্ত বেশি...রাগ করলে বাথরুমের দরজা লাগিয়ে ভেতরে বসে থাকে/ঘরের দরজা লাগিয়ে ভেতরে বসে থাকে...বাহির থেকে ডাকাডাকি করলেও দরজা খুলতে চায়না...হয় দরজা ভেঙে ঢুকতে হয় না হয় অপেক্ষা করতে হয় কখন সে দরজা খুলবে...ভয় হয় যদি কোন দূর্ঘটনা ঘটিয়ে ফেলে...মাঝে মধ্যে নিজের মাথায়-শরীরে নিজেই আঘাত করে...ঠিক মতো পড়তে চায় না...নিজের যা মন চায় তাই করে...তার মতের বিরোদ্ধে গেলেই অভিমান-রাগ করতে থাকে...এর এই মাত্রাছাড়া অভিমান-রাগ এক ধরনের মানসিক রোগ...
এইরকম অবস্থায় অবশ্যই অবশ্যই নিকটতম কোন মনরোগ বিশেষজ্ঞের শরাণাপন্ন হওয়া উচিত...পাশাপাশি বাসায় যারা আছেন তাদের করনীয়গুলো নিচে আলোচনা করা হলো: -
১) অভিমানি রোগীর জন্য নিজে কিছুটা ত্যাগ স্বীকার করুন...
২) তার অভিমানের কারন নির্নয় করে তার সাথে স্বাভাবিক আচরন করুন...
৩) তার সাথে ঘন ঘন কাউন্সিলিং করুন...সম্ভ্যাব্য সমস্যা জিইয়ে না রেখে সমাধান করে ফেলুন...
৪) ভালো কোন পরিবেশে ঘুরতে নিয়ে যেতে পারেন...প্রকৃতির কাছাকাছি আসলে মন ভালো হয়ে যায়...
৫) তাকে কখনোই একাকী থাকতে দিবেন না এমনকি একাকী ঘুমাতে যেতে দিবেননা...
লিখেছেন প্রবাসী আশরাফ ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১২
সুত্রঃ- সোনার বাংলাদেশ ব্লগ

