home top banner

Health Tip

অবাঞ্ছিত লোম যখন বিব্রতকর
04 March,14
Tagged In:  unwanted hair  
  Viewed#:   409

unwanted-hairঅবাঞ্ছিত লোমমেয়েদের ঠোঁটের ওপর, চিবুক, বুক, পেট বা পিঠে যদি তুলনামূলক মোটা, কালো কখনো বা একটু ঘন লোম দেখা দেয়, তাতে যেকোনো মেয়েই বিব্রত এবং দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। ডাক্তারি ভাষায় এই অবাঞ্ছিত লোম বৃদ্ধিকে হারসুটিজম বলা হয়।

এ সমস্যা খুব বিরল কিছু নয়। সমীক্ষায় দেখা গেছে যে বিশ্বব্যাপী ৫% থেকে ১৫% বয়ঃসন্ধিপ্রাপ্ত বা প্রাপ্তবয়স্ক মেয়েরা এ সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারেন। তবে পারিবারিক ইতিহাস, গোত্র বা জাতিভেদে এর তারতম্য দেখা যায়। মধ্য এবং দক্ষিণ এশিয়ার মেয়েদের মধ্যে এ সমস্যা বেশি। ওজন আধিক্য বা স্থূল মেয়েদেরও এ সমস্যা বেশি হয়।

কীভাবে অবাঞ্ছিত লোম তৈরি হয়?
মেয়েদের শরীরে স্বাভাবিকভাবে এন্ড্রোজেন বা পুরুষ হরমোনের পরিমাণ খুব অল্প। কিন্তু কখনো ডিম্বাশয় বা এডরেনাল গ্রন্থি থেকে এই এন্ড্রোজেন অধিক পরিমাণে তৈরি হলে বা এন্ড্রোজেনের অধিক কার্যকারিতার কারণে এই হারসুটিজম দেখা দিতে পারে।

কী কী কারণে অতিরিক্ত এন্ড্রোজেন তৈরি হয়?
প্রথমেই জেনে নেওয়া ভালো যে এটা কোনো রোগ নয়, বরং লক্ষণ। বিভিন্ন কারণে পুরুষ হরমোন এন্ড্রোজেনের আধিক্য হয় মেয়েদের রক্তে।

কারণ গুলো হলো:
 পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিন্ড্রম: ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে অবাঞ্ছিত লোমের কারণ এটি। অবাঞ্ছিত লোম বৃদ্ধির পাশাপাশি মুখে ব্রন, মাথার চুল পরা, ঘাড়ে কালো দাগ, ওজন বৃদ্ধি বা স্থ্থূলতা, অনিয়মিত মাসিক, গর্ভধারণে সমস্যা, উচ্চ রক্তশর্করা-কোলেস্টরল, উচ্চ রক্তচাপ, ডিম্বাশয়ে সিস্ট ইত্যাদি থাকতে পারে।
 অনির্ণিত কারণ: অনেক সময় সুনির্দিষ্ট কারণ অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরও পাওয়া যায় না। পারিবারিক ইতিহাস থাকে বা স্থূল মেয়েদের ক্ষেত্রে দেখা দেয়।
 ডিম্বাশয় এবং এডরেনালগ্রন্থির টিউমার বা হাইপারপ্লাসিয়া: এ রকম টিউমার থেকে অত্যধিক পরিমাণ এন্ড্রোজেন হরমোন নিঃসরণের জন্য গলার স্বর পরিবর্তিত হতে পারে, শরীরের গঠন বা মাংসপেশির পুরুষালি পরিবর্তন ঘটে, এমনকি জননেন্দ্রিয়রও পরিবর্তন দেখা দেয়।
 অন্যান্য হরমোনজনিত রোগ: থাইরয়েডের সমস্যা, কুসিংস সিনড্রম, এক্রোমেগালি, প্রোলেকটিনোমা, ইনসুলিন রেজিসটেন্স সিনড্রম ইত্যাদি কারণে এই সমস্যা হতে পারে। তবে এগুলো বিরল সমস্যা।
 ওষুধ: ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায়ও এ সমস্যা হতে পারে। যেমন স্টেরয়েড, ডেনাজল, মিনোক্সিডিল, মেটোক্লোপ্রামাইড, মিথাইলডোপা, ফেনোথায়াজিন, প্রজেস্টেরন ইত্যাদি।

চিকিৎসা:
 কারণ নির্ধারণ এবং সে অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
 বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হয় এবং কমপক্ষে ছয় মাস সময় লাগতে পারে ফল পাওয়া শুরু হতে।
 ওষুধের পাশাপাশি ওয়াক্সিং, শেভিং, ক্রিম, ইলেকট্রলাইসিস, লেসার ইত্যাদির মাধ্যমে সাময়িকভাবে লোম কমিয়ে ফেলা যায়।
 ওজন কমানো অত্যন্ত জরুরি। উচ্চ রক্তশর্করা, কোলেস্টরল বা উচ্চরক্তচাপ হলে চিকিৎসা নিন।

সূত্র - প্রথম আলো

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: খাবার দিয়ে বাড়ান হজমশক্তি
Previous Health Tips: দ্রুত পেটের মেদ হ্রাস করার খাবার

More in Health Tip

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... See details

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... See details

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... See details

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... See details

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... See details

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')