বয়স ধরে রাখার চিন্তা অনেকেরই থাকে। এ জন্য বাজারে প্রচলিত আছে এমন অনেক ক্রিম ও প্রসাধনী। দাবিও করা হয়, এসব ক্রিমের ব্যবহারে বয়স ও তারুণ্য ধরে রাখে, বুড়িয়ে যেতে দেয় না ত্বককে, ত্বকের ভাঁজ প্রতিরোধ করে। আসলেই কি তা সম্ভব?
বিজ্ঞানীরা বলছেন সম্ভব নয়। সব কোষকলার মতো ত্বকের কোষেরও আয়ু আছে, এরা বুড়িয়ে যায় ও মৃত হয়। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই কমে আসে ত্বকের কোলাজেন ও ইলাস্টিন, যা তারুণ্যে ত্বকের টান টান সতেজ ভাব ধরে রাখত। ফলে ভাঁজ পড়ে ত্বকে, ত্বক জীর্ণ ও বুড়িয়ে যায়।
চুল পাকা যেমন রোধ করা যায় না, তেমনি এই পরিবর্তনকেও পুরোপুরি রোধ করা যায় না। তবে ত্বকে ভাঁজ বা ত্বক জীর্ণ হওয়া রোধে একমাত্র যে ক্রিমটি আপনাকে সাহায্য করতে পারে, তা হলো সানস্ক্রিন। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি সরাসরি ত্বক কোষের ডিএনএ এবং আরএনএকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, ত্বরান্বিত করতে পারে এর মৃত্যু ও ক্ষয়। এই রশ্মি এ ছাড়া ত্বকের কোলাজেন ও ইলাস্টিনকে ভেঙে দেয়, ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়া ও ভাঁজ হওয়াকে দ্রুত করে। সানস্ক্রিন ব্যবহার অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে দীর্ঘদিন আপনাকে সতেজ রাখতে পারে।
এ ছাড়া প্রসাধনীতে ব্যবহার করা হয় পেপটাইড, ভিটামিন এ ও সি, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, আলফা ও বিটা হাইড্রোক্সি অ্যাসিড যা ইলাস্টিন বা কোলাজেন তৈরিতে সাহায্য করে কিংবা স্বাভাবিক কোষ মৃত্যু বা ক্ষয়কে রোধ করে বলে দাবি করা হলেও এর কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ বা ভিত্তি নেই।
বিজ্ঞানীরা বলছেন প্রসাধনীর পেছনে খরচ না করে বরং বুড়িয়ে যাওয়া রোধে ধূমপান ছাড়ুন, পুষ্টিকর ও পরিমিত আহার করুন, খাবারে প্রচুর ভিটামিন ও খনিজ রাখুন। বাইরে গেলে রোদচশমা ও টুপি পরুন, সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। এবিসি হেলথ
সূত্র - প্রথম আলো

