লক্ষ্য করে থাকবেন, কিছু কিছু লোক আছেন বয়স বেশি, মহাভিড়ের মধ্যে তাদের আলাদা করে চেনা যায়। সবল সুঠাম শরীর, তীè চেতনা ও প্রফুল্ল মুখ। যৌবনদীপ্ত এই জীবন সবসময় বংশের ধারা নয়। সাহসী মন, নির্ভয়, জীবন ও বিশ্বের প্রতিমমতা, কৌতূহল, ফিটফাট সবল শরীর, ভালো খাওয়া দাওয়া, ভালো সাজন, শিথিল মনএসবই প্রয়োজন সজীব থাকা সারা জীবনের জন্য।সবচেয়ে জোরালো জিনিসটা হচ্ছে মনের উৎসাহ উদ্দীপনা। অনেকে নিজেকে বুড়ো বলে পরিচয় দিতে চান না, বুক চিতিয়ে চলতে চান, মুখোমুখি হতে চান জগতের, পেরুতে চান সব বাধা। কাজে-কর্মে চঞ্চল থাকতে চান, প্রভাব ফেলতে চান চার পাশে, অংশগ্রহণ করতে চান সবার কল্যাণের জন্য কাজে। সেসব বুড়োরা কখনো বুড়ো হন না।এমন এক সময় আসবে, এদের সংখ্যা বাড়বে। জ্ঞান, প্রজ্ঞা, অভিজ্ঞতার জন্য সবার শ্রদ্ধা অর্জন করবেন, নিজেরাও থাকবেন সুস্থ, সজীব ও সবল।
উজ্জীবিত হবার জন্যই আহার, খাওয়া। পূর্ণবয়স্ক যারা তাদের এক বছর বয়স বেশি হওয়া মানে সচল থাকার জন্য শরীরের চাহিদা কমে যায় ক্যালোরির। স্বাস্থ্যকর ওজনের জন্য আহারে গ্রাস বা লোকমার আয়তন ছোট করতে হবে, খাওয়ার পরিমাণও কমাতে হবে। বেশি করে খেতে হবে তাজা ফল, সবজি, সালাদ ও খাদ্যশস্য, এরা ভিটামিন, পুষ্টি উপকরণে ও আঁশে থাকবে ভরপুর। লাল গোশত, চর্বি না খেয়ে বরং মাছ ও কচিমোকা খাওয়া যায়। চর্বি থাকলেও ঝরিয়ে নিতে হবে। ভাজা খাবার না খাওয়া ভালো।ভাপে সিদ্ধ, সেঁকা খাবারই ভালো। কম করে নুন খাবেন।
শরীর ও মনের চাই ব্যায়াম : জেনে শুনে ব্যায়াম করলে, শরীর মন ভালো রাখার জন্য ব্যায়াম করলে উজ্জীবিত হওয়া যায়। সপ্তাহে ৫-৬ দিন ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা খুব ভালো ব্যায়াম। সাইকেল চড়া, সাঁতার কাটাও ভালো ব্যায়াম। স্ট্রেডিংও কম মাত্রায় এবোরিকসও চলতে পারে। হৃদপিণ্ড ও ফুসফুসের চর্চা হলে মনের চাপ কমবে, টেনশন কমবে, নমনীয়তা ও স্ট্যামিনা বাড়বে শরীরের। মনোযোগও বাড়বে।ব্যায়ামকে উপভোগ করুন।
সুনিদ্রা চাই, নিটোল ঘুমে পার হোক রাতটা।একটি রাত সুনিদ্রা না হলে বোঝা যায়। তাই চাপকে কি রাখা যায় শয়ন ঘরের বাইরে? অনিদ্রার জন্য মনের চাপ ও অশান্তি একটি বড় কারণ।তাই কোনো ভারী কাজ নয় শয়ন ঘরে, টিভি দেখাও নয়।শোবার সময় নিজেকে শিথিল করে নেয়ার চর্চা করতে হবে। শুতে যাবেন ঠিক সময় এবং প্রতি সকালে উঠবেন একই সময়ে।দিনে থাকতে হবে কাজেকর্মে ব্যস্ত। ব্যায়াম করলে ঘুম আসে সহজে। শোবার খাটে চাই একটি শক্ত ভালো তোশক। শিরদাঁড়া সোজা করে শোয়া, উষ্ণ থাকা।
নতুন সব শখ গজিয়ে উঠুক নতুন সব কাজে, শখে নিজেকে জড়িয়ে রাখতে পারলে যৌবনে উজ্জ্বল থাকা যায়।অবসর সময়ে সমাজের কোনো কল্যাণমূলক কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখা। হাসপাতাল, মূক ও বধিরকেন্দ্র, মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, বয়স্কদের পুনর্বাসন কেন্দ্রএরকম অনেক কাজে নিজেকে লাগানো যায়। নিজের যে শখ আছে, সে ধরনের শখ আরো লোকের থাকতে পারে, এদের সাথেও বন্ধুত্ব হতে পারে, একত্রে কাজ করার সুযোগ মিলতে পারে। ছবি তোলার শখ থাকলে বুনো ফুলের ছবি, পরিবারের সবার ছবি তোলা আনন্দের ব্যাপার হতে পারে।
লাইব্রেরি গঠন করা যেতে পারে।ভ্রমণের শখ থাকলে আরো ভালো। নতুন নতুন আবিষ্কার, ভাবনা, একত্রে বাস, গানেরজলসা, আর্ট একজিবিটকত শখই তো আছে।নিজের দিকে খেয়াল রাখা চাইনিজে সর্বোত্তম থাকা চাই। নিজের দেখভাল করলে, দেহ পরিচর্যা করলে, সুন্দর সাজলে মনে আসে ফুর্তি, স্বাস্থ্যোজ্জ্বল দীপ্তি আসে শরীরে, দেহ ও মন ভালো লাগে।
সাজসজ্জার জন্য কিছু সময় রাখা ভালো। হয়তো চামড়া কুঁচকে গেছে, বার্ধক্যের চিহ্ন শরীরে, কুছ পরোয়া নেই, অবয়বে যা কিছু ভালো একেই পুঁজি করে সাজতে হবে সুন্দর করে। লাবণ্য আসবে তাহলে। ত্বকের চাই বিশেষ পরিচর্যা।শুষ্ক ত্বক যেন না হয়, যখন ত্বক চুলকায় তখন ভালো থাকে না। ময়শ্চারাইজিং লোশন এবং পুরুষের জন্য আফটার শেভ লোশন। বাইরে গেলে সানস্ক্রিন। ভেজাচুলেহেয়ার ড্রায়ার না লাগালে ভালো। গ্রুমিং-এর শেষ পর্যায়ে সুগন্ধি সেন্টেরস্প্রে দিলে ভালো হয় সারা শরীরে।দেখন ভালো হলে, সাজসজ্জায় পরিপাটি হলে মনেও ভালো লাগে, থাকেও।
আজকাল চিকিৎসা ব্যবস্থা খুব উন্নত, ওষুধও আছে হরে করকমতাই অসুখ বিসুখে ডাক্তারের পরামর্শ নিতেই হবে।আয়ু থাকলে সামনে অনেক বছর হয়তো রয়েছে। ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থাকলে, সাধারণ জ্ঞান ব্যবহার করে জীবনচর্চা করলে ভালো থাকা যায়। কেবলই প্রিয়দর্শন হয়ে নয়, প্রফুল্ল মন নিয়ে, পরিপূর্ণ জীবন নিয়ে সবার উপকার করে বেঁচে থাকা যায়। ‘জীবনপাত্র উছলিয়া মাধুরী করেছ দান’ এইতো জীবনের সার্থকতা। সারা জীবন সজীব, সবুজ হয়ে বেঁচে থাকার এইতো রহস্য।
সূত্র - dailynayadiganta.com

