
সাধারণত বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে যে সকল কারণে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে থাকে সেগুলি হলঃ
* ভুল পছন্দ- আমি ভুল পছন্দ করেছিলাম। আমি প্রেমে পরেছিলাম ভাসা ভাসা ভাবে, শারীরিক ভাবে, বা তাড়াহুড়োর কারণে, সুতরাং ঐসব কারণে, ভালবাসা খুব তাড়াতাড়িই উবে গিয়েছিল। আমরা একে অপরকে বুঝতে এবং নতুন ভাবে জীবনের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু আমরা একত্রে থাকার জন্য সমঝোতা এবং নতুন দায়িত্ববোধের ধারনা সম্পর্কে বুঝতে প্রস্তুত ছিলাম না।
* টাকাপয়সা- প্রথমেই যা বলা হয়। “আমি ভেবেছিলাম আমাদের মধ্যে হয়ত ভবিষ্যৎ কিছু আছে”। আমাদের উভয়েরই নিজস্ব টাকাপয়সা ছিল, কিন্তু আমরা টাকা উড়াতে অভ্যস্ত হতে শুরু করেছিলাম। যখন আমাদের টাকাপয়সা ছিল তখন সব কিছুই শান্ত ছিল, কিন্তু যখন টাকাপয়সা শেষ হয়ে গেল অভিযোগ এবং অনুযোগ শুরু হতে লাগল। ইচ্ছা এবং সমঝোতা টাকাপয়সা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়েছিল।
* ত্যাগ স্বীকার- আমরা মনে করতাম বিবাহ সব সময়েই ভাল এবং আমরা এর মন্দ দিক গুলি দেখতে চাইতাম না। যখন এর বিপরীতটি ঘটল, আমরা আমাদের দায়িত্ব সমূহ গ্রহন করলাম না। সবকিছু আরও ভাল করে করতে আমাদের সর্বদাই দুঃখ প্রকাশ বা ইচ্ছা থাকত। ঐসব বছর গুলিতে আমরা বিয়েকে আবেগপূর্ণ এবং সুখী রাখতে কোনরকম চেষ্টা করিনি। আমরা নিজেদের প্রতি যেমন তেমন সঙ্গীর প্রতিও বিশ্বস্ত ছিলাম না, আমরা কেবল সময় অতিক্রম করছিলাম।
* সহিংসতা- আমরা আলাদা হয়ে গিয়েছিলাম কারণ আমার সঙ্গী রাগান্বিত আক্রমণ করত যা তাকে নিয়ন্ত্রণহীন করে তুলেছিল, এবং সে এর জন্য চিকিৎসা নিতে যেতে চাইত না। এধরনের চরম রাগের পর ‘আমরা’ এর বদলে ‘আমি’ চিন্তার ফলে হিংসার সৃষ্টি হত। মদ এবং মাদক দ্রব্য এধরনের আচরণকে আরও খারাপ এবং হুমকি স্বরূপ করে তুলেছিল। এ পর্যায়ে এসে সহিংসতা আমাদের বিয়েকে বিষময় করে তোলে এবং আমাদের সন্তানদের মধ্যে তাদের নিজেদের সম্পর্কে উপলদ্ধিকে ক্ষতিগ্রস্থ করে। আমাদের সহিংসতা আমাদের বাচ্চাদের আচরণ বদলিয়ে দেয় এবং এটি ব্যক্তিগত আবেগে ক্ষত সৃষ্টি করে যা কখনও নিরাময় যোগ্য নয়। আমাদের কেহই স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারছিলাম না কারণ আমরা হতবিহবল হয়ে পরেছিলাম। কারও প্রতি ভালবাসাতে ভোগান্তি থাকতে পারেনা।
* সদ্গুণ এবং মূল্যবোধ- কারণ আমি জানতাম না কিভাবে সদ্গুণ, মূল্যবোধ এবং এ সংক্রান্ত দক্ষতা সমুহকে উৎসাহিত এবং প্রশংসিত করতে হয়। যদিও আমি জানি যে এটা একটা সবসময়ের জন্য বিশেষ সম্পর্ক কিন্তু সংঘর্ষের মাধ্যমে এর মধ্যের খুঁত গুলি আরও প্রকট ও দৃশ্যমান হয়ে উঠে।
* অবিশ্বস্ততা- আমরা একে অপরের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলাম, কিন্তু আমরা তা বজায় রাখতে পারিনি। কেউ একজন আমাদের বলেছিল ইচ্ছামত বেছে নেয়া নয়, বিবাহ হল শৃঙ্খলা। আমরা আমাদের প্রেমিকদের প্রতি আসক্ত হয়ে পরেছিলাম, নতুন নতুন মানুষের সাথে পরিচয়ে আমরা প্রভাবিত হচ্ছিলাম, আমরা অসম্ভব প্রেমের প্রতি আসক্ত হয়ে পরছিলাম যা ছিল বিধ্বংসী এবং অস্থির প্রকৃতির। প্রেমের ক্ষেত্রে আমরা আত্মপ্রবঞ্চনাতে অভ্যস্ত হয়ে পরেছিলাম এবং অবচেতনে এটা ধরে নিয়েছিলাম যে আমরা সুখী হতে চাই না।
* ভালবাসা এবং বিশ্বস্ততা- আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলাম যে আমাদের মধ্যের বিষাক্ত প্রবৃত্তি সমূহ পরিবর্তন করব, কিন্তু আমরা এর একটিও পরিবর্তন করতে সমর্থ হলাম না কারণ আমাদের একটুও ইচ্ছা ছিলনা এবং তার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে চেষ্টাও করিনি যাতে আমরা আরও একটু ভাল থাকি। আমরা মনে করেছিলাম যে বিয়ের পরিণতিতে হয়ত আমাদের মন্দ দিক গুলি ঠিক হয়ে যাবে, আমরা প্রতিটি ক্ষেত্রেই আরও বেশী স্বার্থপর হয়ে পরেছিলাম।
* আত্মাভিমান- আমাদের আত্মশ্লাঘাপূর্ণ কার্যকলাপ এবং স্বার্থপরতা আমাদেরকে আমাদের সঙ্গিদের উপভোগ করতে দিচ্ছিল না, আমরা মানসিক ভাবে এবং আবেগগত ভাবে বিচ্ছিন্ন থাকছি, আমরা যৌনতার দিক থেকে কাছে আসছি কিন্তু মানসিক ভাবে বা মনস্তাত্ত্বিক ভাবে কাছে আসছি না। সব সময়েই আমরা আমাদের নিজেদের জীবন নিয়ে আলাদাভাবে মেতে থাকি এবং যখন সমস্যার উদ্ভব হয় তখন বুঝতে পারি আমরা এককভাবে তার সম্মুখীন হচ্ছি, যুগল হিসাবে নয়।
* পরিবর্তন: যখন আমরা বিয়ে করি, আমরা বদলাই। এ কথাটি একটি কথার কথা এবং বাস্তব নয়। যখন আমরা বিয়েতে আবদ্ধ হই তখন সেই একই ত্রুটি বিচ্যুতি গুলি থেকে যায়, সেগুলির কোন পরিবর্তন হয় না যদি না কোন সুস্পষ্ট এবং বাস্তব সম্মত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়, যেমন কাউন্সেলিং। আমরা অন্যের জন্য কখনও পরিবর্তিত হই না, আমাদের নিজেদের প্রয়োজনেই আমরা বদলাই।
* অপরাধ বোধ- এমন অনেক কিছুই আছে যা অতীত নিয়ে সম্পর্কিত নয়। এগুলি অপ্রয়োজনীয় কারণে হতাশাগ্রস্থ করে তোলে। এগুলি প্রায়ই ভীতিকর দ্বন্দ তৈরি করে এবং পারস্পরিক সম্পর্ক নষ্ট করে দেয়।

