রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের ২১টি পদে মাত্র ১০ জন কর্মরত আছেন। এ ছাড়া পাঁচজন চিকিৎসক প্রেষণে অন্যত্র কাজ করছেন। জরুরি চিকিৎসা কর্মকর্তা (ইএমও) ও অন্তর্বিভাগ চিকিৎসা কর্মকর্তাও (আইএমও) নেই। এ কারণে রোগীরা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।গত এক সপ্তাহে সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৫০ শয্যার এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২১টি চিকিৎসক পদের মধ্যে ১০ জন কর্মরত আছেন। গত বুধবার থেকে সাত দিনের ব্যবধানে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসুবিধা না পেয়ে অনেক রোগী ফিরে গেছে।কোলকোন্দ ইউনিয়নের কুঠিরপাড় গ্রামের রমেজা বেগম (৫০) শীতে শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছিলেন। তিনি গত শনিবার চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এলে তাঁকে ভর্তি না করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। একই দিন উপজেলার সদর ইউনিয়নের ভুটকা গ্রামের আলী হোসেন (৫৫) পেটের পীড়ার চিকিৎসা নিতে এলে চিকিৎসকের অভাবে তাঁর চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন। গত বৃহস্পতিবার উপজেলার সদর ইউনিয়নের নবনিদাস গ্রামের বুলবুলি বেগম (৪০) ফাটা মাথা নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে সেখানে কোনো চিকিৎসক না থাকায় পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। একই দুর্ভোগের কথা জানান কয়েকজন।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে আরও জানা গেছে, চিকিৎসক আবদুর রউফ গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করার পরদিন এবং ২৯ সেপ্টেম্বর চিকিৎসক হিরম্বর কুমার ও আসাদুজ্জামান যোগদান করে ওই দিনই প্রেষণে রংপুর শহরের ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিতে (আইএসটি) চলে যান। এর আগে ৯ এপ্রিল মামুনুর রশিদ যোগদান করে পরদিন প্রেষণে রংপুর শহরের তাজহাটে বক্ষব্যাধি হাসপাতালে চলে যান। ফারজানা শারমিন ২০১০ সালের ১ ডিসেম্বর যোগদান করে পরের বছরের ৬ নভেম্বর বক্ষব্যাধি হাসপাতালে প্রেষণে যান।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু মো. জাকিউল ইসলাম জানান, এমনিতেই চিকিৎসক-সংকট। তার ওপর কয়েকজন চিকিৎসক প্রেষণে রয়েছেন। এ ছাড়া উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মধ্যে আটটিতেই কোনো অবকাঠামো ও চিকিৎসক-কর্মচারী নেই। এ কারণে চিকিৎসাসেবা দিতে কিছুটা কষ্ট হচ্ছে। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।
জেলা সিভিল সার্জন রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘চিকিৎসকদের প্রেষণে চাকরি করার বিষয়টি আমাদের এখতিয়ারে নেই। এটি বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেখে থাকে।’
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক রেজাউল করিম প্রথম আলোকে জানান, যেসব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে কোনো চিকিৎসক নেই, সেগুলোর কাছের উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে চিকিৎসকদের প্রেষণে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়। এতে উপজেলা পর্যায়ে সাময়িক অসুবিধা হতে পারে।
content aggregation:healthPrior21
source:prothom-alo
http://www.24livenewspaper.com/site/index.php?url=www.prothom-alo.com

